Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বেড়েছে ৮৩ শতাংশ

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৪:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

একসময় স্ট্রোককে বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে এ রোগের প্রকোপ। গত প্রায় তিন দশকে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সিদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার বেড়েছে প্রায় ৮৩ শতাংশ। একই সময়ে স্ট্রোকের পর রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেড়েছে। তবে এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা নিয়ে জীবন কাটাতে হতে পারে—এমন তরুণের সংখ্যাও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী নিউরোলজি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সিনসিনাটি ও উত্তর কেনটাকি অঞ্চলের প্রায় তিন দশকের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।

গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটির চিকিৎসক এমিলি আর ফিশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রবণতা, সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ এবং আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যুহারের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তিন দশকে আক্রান্তের হার বেড়েছে ৮৩ শতাংশ

১৯৯৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চিকিৎসার নথি বিশ্লেষণ করে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সি ২ হাজার ৭৬ জনের প্রথমবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য শনাক্ত করেন গবেষকেরা।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে এ বয়সসীমার ৩৩ দশমিক ৯ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হতেন। ২০২০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২ জনে। অর্থাৎ প্রায় তিন দশকে তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার বেড়েছে ৮৩ শতাংশ।

তবে সব ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধি দেখা যায়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, মূলত একটি নির্দিষ্ট ধরনের স্ট্রোকের হার বাড়ার কারণেই সামগ্রিক চিত্রে এত বড় পরিবর্তন এসেছে।

রক্তনালি বন্ধ হয়ে বাড়ছে ইস্কেমিক স্ট্রোক

গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে ইস্কেমিক স্ট্রোক। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী কোনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে এ ধরনের স্ট্রোক হয়। ফলে মস্তিষ্কের কোষে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়।

রক্ত সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে মস্তিষ্কের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে কথা বলা, চলাফেরা, স্মৃতিশক্তি ও শরীরের অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি এক লাখ তরুণের মধ্যে ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৮। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৪৭ দশমিক ৩-এ পৌঁছায়। অর্থাৎ এ ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্তের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

অন্যদিকে, মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক এবং মস্তিষ্কের চারপাশের আবরণঘেরা স্থানে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি।

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ঝুঁকি

গবেষকেরা স্ট্রোকে আক্রান্ত তরুণদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন দিকও বিশ্লেষণ করেছেন। এতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন এবং মাদকদ্রব্য ব্যবহারের মতো কয়েকটি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয় সামনে এসেছে।

অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন হলো হৃদস্পন্দনের অনিয়মিত একটি অবস্থা। এ অবস্থায় হৃৎপিণ্ডে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। সেই জমাট রক্ত মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালিতে পৌঁছে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দিলে ইস্কেমিক স্ট্রোক হতে পারে।

গবেষণায় মাদকদ্রব্য ব্যবহারের তথ্যেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত তরুণদের মধ্যে ৪ দশমিক ৬ শতাংশের মাদক ব্যবহারের তথ্য নথিভুক্ত ছিল। ২০২০ সালে এ হার বেড়ে ৪০ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। এ বৃদ্ধির বড় অংশের সঙ্গে গাঁজা ব্যবহারের সম্পর্ক ছিল।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঝুঁকির বিষয়ই যে তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বৃদ্ধির সরাসরি কারণ, তা এ গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি।

এর একটি কারণ হলো, স্ট্রোকে আক্রান্ত হননি এমন ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যতথ্যের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ ছিল না। ফলে কোন ঝুঁকির বিষয়টি আক্রান্তের হার বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

স্ট্রোকের পর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে

তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার বাড়লেও গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। প্রায় তিন দশক আগের তুলনায় বর্তমানে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে রোগীদের মৃত্যুহার কমেছে।

বয়স, জাতিগত পরিচয় ও লিঙ্গের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পর গবেষকেরা দেখেছেন, ১৯৯৩-৯৪ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত তরুণদের মধ্যে প্রথম ৩০ দিনে মৃত্যুহার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশে।

বিশেষ করে মস্তিষ্কের ভেতরে এবং মস্তিষ্কের চারপাশে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার কমার বিষয়টি লক্ষণীয় ছিল।

তবে স্ট্রোকের পর বেঁচে যাওয়া মানেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা নয়। মস্তিষ্কের কোন অংশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে রোগীর শরীরে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও চলাফেরায় অসুবিধা হতে পারে, কেউ কথা বলা বা স্মৃতিশক্তির সমস্যায় ভুগতে পারেন। এসব জটিলতা একজন তরুণের শিক্ষা, কর্মজীবন ও দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

অল্প বয়স থেকেই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব

গবেষণার প্রধান লেখক এমিলি আর ফিশার বলেন, স্ট্রোককে ঐতিহ্যগতভাবে বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হলেও তরুণদের মধ্যেও এটি ক্রমেই সাধারণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার পর আরও বেশি মানুষ বেঁচে থাকছেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা নিয়ে জীবন কাটাতে হতে পারে এমন তরুণের সংখ্যাও বাড়তে পারে।

তাঁর মতে, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের শুরুর দিকেই স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণগুলো শনাক্ত করা এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কেন তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা বাড়ছে এবং কীভাবে তা কমানো সম্ভব, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। তাই একই প্রবণতা পুরো যুক্তরাষ্ট্রে কিংবা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সমানভাবে দেখা যাচ্ছে কি না, তা এ গবেষণা থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না।

তবে তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার বৃদ্ধির এ চিত্র অল্প বয়স থেকেই স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়গুলো শনাক্ত করা এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

সূত্র: সায়েন্স ডেইলি

 

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।