Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপির পর কেন ফিরে আসে বাতের ব্যথা?

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ২২, ২০২৬ ২:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

ক্যানসারের চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপি নেওয়ার পর কিছু রোগীর শরীরে দেখা দিতে পারে গিঁটে ব্যথা, ফোলাভাব ও প্রদাহজনিত বাত। চিকিৎসার পর এসব উপসর্গ কমে গেলেও অনেকের ক্ষেত্রে আবার ফিরে আসে ব্যথা। কখনো কখনো পরবর্তী সময়ে ব্যথার তীব্রতাও বেড়ে যায়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক এর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের ধারণা, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু কোষ আগের প্রদাহের স্মৃতি ধরে রাখতে পারে। পরে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া আবার সক্রিয় হলে নতুন করে গিঁটে প্রদাহ ও ব্যথা দেখা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টার ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে ক্যানসার ইমিউনোলজি রিসার্চ সাময়িকীতে।

ইমিউনোথেরাপির পর কেন হয় বাত?

ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপির একটি ধরন হলো ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর। এ ধরনের ওষুধ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

তবে এ চিকিৎসার ফলে কখনো কখনো রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে সুস্থ কোষ ও টিস্যুতেও আক্রমণ চালাতে পারে। গিঁটের টিস্যু আক্রান্ত হলে দেখা দেয় ব্যথা, ফোলাভাব ও প্রদাহজনিত বাত।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত প্রায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে বাতের উপসর্গ আবার ফিরে আসতে পারে। এমনকি ইমিউনোথেরাপি শেষ হওয়ার কয়েক মাস বা কয়েক বছর পরও কারও কারও শরীরে এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

প্রদাহের স্মৃতি ধরে রাখে রোগপ্রতিরোধী কোষ

বাতের ব্যথা কেন বারবার ফিরে আসে, তা বুঝতে গবেষকেরা ছয়জন রোগীর গিঁট থেকে সংগ্রহ করা তরলের নমুনা পরীক্ষা করেন। প্রথমবার প্রদাহ দেখা দেওয়ার সময় এবং পরবর্তী সময়ে ব্যথা ফিরে এলে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল।

পরীক্ষায় রোগপ্রতিরোধী কোষের দুটি উল্লেখযোগ্য ধরন শনাক্ত করেন তাঁরা। এর মধ্যে রয়েছে প্রদাহ সৃষ্টিকারী সিডি৮ টি কোষ এবং পিডি-১ ও সিএক্সসিএল১৩ নামের বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিশেষ ধরনের সিডি৪ টি কোষ।

গবেষকদের ধারণা, প্রথমবার প্রদাহের সময় সক্রিয় হওয়া এসব কোষের কিছু অংশ আক্রান্ত গিঁটে থেকে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেগুলো আবার সক্রিয় হয়ে প্রদাহের প্রতিক্রিয়া শুরু করতে পারে।

অর্থাৎ, প্রতিবার প্রদাহের ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে একেবারে নতুন করে প্রতিক্রিয়া শুরু করতে হয় না। আগের প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত কোষগুলোই পরবর্তী সময়ে আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে গিঁটের ব্যথা বারবার ফিরে আসার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে।

পরবর্তী সময়ে ব্যথা আরও তীব্র হয় কেন?

গবেষণায় দেখা গেছে, পরবর্তী দফার প্রদাহের সময় সংশ্লিষ্ট রোগপ্রতিরোধী কোষগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এ সময় তারা প্রদাহ বাড়ায় এমন সংকেতবাহী উপাদানও বেশি তৈরি করে।

একই সঙ্গে রেগুলেটরি টি কোষের মধ্যেও পরিবর্তন দেখা গেছে। সাধারণত এসব কোষ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত সক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব কোষের মধ্যেও প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপাদান তৈরির প্রবণতা থাকতে পারে।

এ ছাড়া আক্রান্ত গিঁটে বিভিন্ন রোগপ্রতিরোধী কোষের মধ্যে যোগাযোগের নেটওয়ার্কও পরবর্তী প্রদাহের সময় আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন একসঙ্গে কাজ করলে প্রদাহের প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হতে পারে। তবে ব্যথা ফিরে আসার পেছনে ঠিক কোন প্রক্রিয়া কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ভবিষ্যতে চিকিৎসায় কীভাবে কাজে লাগতে পারে?

গবেষকদের আশা, এ আবিষ্কার ভবিষ্যতে কোন রোগীর ইমিউনোথেরাপির পর বাতের সমস্যা বারবার ফিরে আসার ঝুঁকি বেশি, তা শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

একই সঙ্গে এমন চিকিৎসা উদ্ভাবনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে, যা গিঁটের প্রদাহ ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করবে, কিন্তু ক্যানসারের বিরুদ্ধে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা অক্ষুণ্ন রাখবে।

তবে গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এতে মাত্র ছয়জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে এই ফলাফল সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।

তারপরও গবেষণাটি ক্যানসারের চিকিৎসার পর দীর্ঘস্থায়ী গিঁটের ব্যথা কেন বারবার ফিরে আসে, তা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

সূত্র: সায়েন্সডেইলি

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।