![]()
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে পদ থেকে সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের কার্যক্রম শুরুর দিনই এ বিষয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। নতুন স্পিকার হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ‘চেঞ্জ ব্লক’ নামে পরিচিত জোটে রয়েছে ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ, দ্য ডেমোক্র্যাটস ও ইসরাইল বেইতেনু। এ ছাড়া জোটটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম।
সব মিলিয়ে ১২০ সদস্যের নেসেটে এই দলগুলোর আসনসংখ্যা ৬৭। ফলে বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নির্বাচনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তাদের।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি শুক্রবার জানিয়েছেন, ওহানাকে সরানোর বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে নতুন স্পিকার হিসেবে কাকে নির্বাচিত করা হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের নাম উঠে এসেছে।
চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দ্য ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান বলেন, ২৬তম নেসেটের শপথ গ্রহণের পর তাদের প্রথম কাজ হবে নতুন স্পিকার নিয়োগ। এরপর পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটির প্রধান নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরাইলে চালানো হামলার ঘটনা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বারাক সেরির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণের দিনই স্পিকার নির্বাচনের ভোট হতে পারে। সরকার গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চললেও স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধীদের।
তবে এ উদ্যোগে ইসরাইল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যানের অবস্থান নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। কান নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেসেটের আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কাজ করতে লিবারম্যান বরাবরই অনাগ্রহ দেখিয়ে এসেছেন। অথচ স্পিকার পরিবর্তনের উদ্যোগে এসব দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে লিবারম্যান সরাসরি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে না চাইলে তার দলকে ভোটদানে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন বিরোধী জোটের অন্য নেতারা। এতে সংসদে উপস্থিত সদস্যদের ভোটের ভিত্তিতে স্পিকার পরিবর্তনের প্রস্তাব পাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নতুন সরকার গঠনের আশাবাদ জানিয়েছেন ইয়ার গোলান। চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এসব দলের সমর্থন পেলে বিরোধীরা সরকার গঠনের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে পারবে। তবে লিবারম্যান প্রকাশ্যে এ ধরনের রাজনৈতিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
গোলানের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১২০ সদস্যের নেসেটে বিরোধী দলগুলোর হাতে বর্তমানে ৪৮টি আসন রয়েছে। রা’আমের সমর্থন পেলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৬টি। জয়েন্ট লিস্টের ১১টি আসন যুক্ত হলে বিরোধী জোটের সমর্থন আরও বাড়বে।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন গোলান। তার ভাষায়, এমন সরকার গঠিত হলেও সেটি কার্যত আরেকটি নেতানিয়াহু সরকার হবে। তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করেন।
তবে স্পিকার পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং নতুন সরকার গঠনের আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোয়, তা নির্ভর করছে বিরোধী দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতা ও সংসদীয় সমর্থনের ওপর।
