![]()
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারি কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ কর্মসূচির নিবন্ধন শুরুর বিষয়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির আপিল আদালত। ফলে নির্ধারিত সময়ে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল এ স্থগিতাদেশ দেন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করে সেটি স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিল। সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আপিল আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন।
এ সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজারো সম্ভাব্য আবেদনকারীর অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। অভিবাসনবিষয়ক আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল জানিয়েছে, ডিভি কর্মসূচি চালু না করার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি স্থগিত করে। পরে ২০২৬ সালের আগস্টে আদালতের আরেকটি আদেশের পর পররাষ্ট্র দপ্তর ডিভি ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।
২০২৭ সালের লটারির নিবন্ধন শুরু না হওয়ায় গত আগস্টে রেড ঈগল ল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অক্টোবরে একটি ফেডারেল জেলা আদালত পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং তা স্থগিতের আবেদন জানায়।
সর্বশেষ আপিল আদালতের সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের নির্দেশ আপাতত কার্যকর থাকছে না। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলাটি করার ক্ষেত্রে রেড ঈগল ল-এর যথাযথ আইনি অধিকার বা অবস্থান রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কম অভিবাসন-হার থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা, কোনো অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করা নয়। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি কোনো সম্ভাব্য লটারি আবেদনকারীর পক্ষ থেকেও মামলাটি করেনি।
এদিকে, ডিভি লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধনের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের এখন পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচিটি আদৌ চালু হবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ভারতের নাগরিকেরা সাধারণত ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় অভিবাসীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় দেশটি এ কর্মসূচির যোগ্য দেশের তালিকায় নেই।
ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নিবন্ধনের তারিখ নিয়ে কোনো অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
