![]()
পুলিশের চাকরিতে থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির নথি অনুযায়ী ২০০২ সাল থেকে তিনি এই সমিতির সদস্য হলেও, পুলিশে যোগদানের আগেই তিনি সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার ভিডিও ভাইরালের পর এই শোকজের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এল।
- ⚖️ শোকজ নোটিশ: চাকরিতে থেকে আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক ওসি মনজুর কাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ।
- 🛡️ ওসির দাবি: পুলিশে যোগদানের আগেই (২০০৫ সালের ৬ মে) বার কাউন্সিল বরাবর সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
- 📋 সমিতির উদ্যোগ: অন্যান্য পেশায় থেকেও সদস্যপদ বহাল রাখা নিষ্ক্রিয় আইনজীবীদের চিহ্নিত করতে গত ২৫ জুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সমিতি।
- 🗣️ পূর্বের পটভূমি: সম্প্রতি সরাইল থানায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসির দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
আইনজীবী সমিতির ব্যাখ্যা ও ওসির বক্তব্য
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন জানিয়েছেন, পুলিশের চাকরিতে কর্মরত থেকেও আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সক্রিয় রাখা সমিতির বিধিবিধানের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কারণে সরাইল থানার ওসিসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত অন্যান্য সদস্যদেরও নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া দাবি করেছেন যে, তিনি নিয়ম মেনেই সদস্যপদ স্থগিতের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং যথাসময়ে লিখিত ব্যাখ্যাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমিতির কাছে জমা দেবেন। চাকরি শেষে তার পুনরায় আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এমপি রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার প্রেক্ষাপট
এর আগে গত ২২ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার একটি উত্তপ্ত বাগ্বিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা না দেওয়া এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ নিয়ে এমপি রুমিন ফারহানা ওসির সঙ্গে দেখা করতে গেলে কথপোকথনের একপর্যায়ে ওসিকে ‘বিরাট আওয়ামী লীগ’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। জবাবে ওসি বলেন যে রুমিন ফারহানা নিজেই আওয়ামী লীগের লোকজনকে শেল্টার দেন এবং বহিষ্কৃত ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন। এই ঘটনার পর থেকেই ওসিকে নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে।
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের বিতর্ক তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা | মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া (ওসি, সরাইল থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) |
| শোকজকারী প্রতিষ্ঠান | চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি (সাধারণ সম্পাদক: মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন) |
| ওসির দাবি | ২০০৫ সালের ৬ মে বার কাউন্সিলে সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করা হয়েছিল |
| পূর্বের আলোচিত ঘটনা | এমপি রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানার ভেতরে বাগ্বিতণ্ডা ও ভিডিও ভাইরাল |
