![]()
পাবনার ঈশ্বরদীতে ভাড়া বাসার একটি ঘর থেকে হৃদয় প্রামানিক (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মরদেহের পাশে পাওয়া একটি চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য স্ত্রীকে দায়ী করার পাশাপাশি নবজাতক সন্তানের মৃত্যুর বিষয়ে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হৃদয় প্রামানিক ঈশ্বরদী উপজেলার মানিকনগর পশ্চিমপাড়া এলাকার আনজারুল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হৃদয় তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে নিয়ে দিয়ার সাহাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিন দিন আগে পারিবারিক কলহের জেরে সুমাইয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে হৃদয় মানসিকভাবে হতাশ ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার দুপুর থেকে হৃদয়ের বাসার দরজা বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্বজনেরা এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হৃদয়ের স্ত্রী একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। তবে জন্মের পাঁচ দিন পর শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হৃদয়ের মনে ক্ষোভ ও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের পাশে পাওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী। আমার ছেলেকে মেরেছে শরীফ। আমার জন্য দোয়া করবেন।’
চিরকুটে শরীফ নামে যে ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি হৃদয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়ার বড় ভাই। তবে নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চিরকুটে করা অভিযোগেরও সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুকুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
