![]()
দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ৭ দফা নির্দেশনার আলোকে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর। লকআপ পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি এবং দায়িত্বে অবহেলায় শূন্য-সহনশীলতা নীতির আওতায় ইতিমধ্যেই নির্দেশিকার ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম।
- 📹 ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি: প্রতিটি কারাগারে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং এবং আইটি-দক্ষ কারারক্ষী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- 🔒 লকআপ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ: জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া লকআপ পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও জেলারের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে করা হচ্ছে।
- 🚫 অননুমোদিত অনুপস্থিতিতে জিরো টলারেন্স: দায়িত্বে অবহেলা বা বিনা অনুমতিতে স্থান ত্যাগের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আন্তঃকারাগারে বদলি।
- 📈 বাস্তবায়ন ও সুফল: আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে এসব পদক্ষেপের দৃশ্যমান সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছে কারা অধিদপ্তর।
কারা অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা
কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানান, নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সারাদেশের প্রতিটি কারাগার তদারকি করা হচ্ছে। অপারেশনাল শাখাকে এই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে, যাতে কোনো কর্মকর্তা পাহারাদারদের অবহেলা বা অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করতে না পারেন। বারবার অবহেলাকারীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক পরিদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা
বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মতো প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা প্রোটোকল নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রহরীরা নির্ধারিত স্থানে থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখেন। পাশাপাশি কারা সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি ব্যবস্থা ও প্রহরীদের দায়িত্ব পালন সরাসরি যাচাই করবেন। গত আগস্টে জারিকৃত এই সাত দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কারাগার প্রশাসনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা এবং যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছে কর্তৃপক্ষ।
কারাগারের নিরাপত্তা নির্দেশিকা তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল পদক্ষেপ |
|---|---|
| উদ্যোক্তা সংস্থা | কারা অধিদপ্তর (অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম) |
| মূল লক্ষ্য | কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার, শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ |
| প্রধান কার্যক্রম | ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি, লকআপ নিয়ন্ত্রণ ও অননুমোদিত অনুপস্থিতিতে জিরো টলারেন্স |
| বাস্তবায়ন অগ্রগতি | নির্দেশিকাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্পন্ন; ৩-৪ মাসের মধ্যে দৃশ্যমান সুফল |
