![]()
ফিফার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক উয়েফার
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বব্যাপী বিতর্কিত বাণিজ্যিক উদ্যোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশেষ প্রতিবেদন:
ফিফার প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনা পাস হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব ধরনের প্রতিযোগিতা বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা (UEFA)। উয়েফাভুক্ত ৫৫টি সদস্য দেশের অ্যাসোসিয়েশন এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
ফিফা সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও মালিকানার অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই পরিকল্পনার খবর আসার পরপরই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দুটি বিবৃতি দেয় উয়েফা। পরবর্তীতে জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট ও কঠোর করে ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বয়কটের পরিধি
উয়েফার ঘোষণা অনুযায়ী, যদি সদস্য দেশগুলোর ভোটে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, তবে উয়েফার সব দল ফিফা পুরুষ বিশ্বকাপ, নারী বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার সার্বিক প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবে। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নারী বিশ্বকাপের প্লে-অফ ম্যাচগুলোর সময় এই সিদ্ধান্ত প্রথম প্রয়োগ হতে পারে।
“বিশ্বকাপ কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়”
উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা সর্বসম্মতিক্রমে এবং স্পষ্ট ভাষায় ফিফার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। বিশ্বকাপকে সাধারণ কোনো বিনিয়োগের পণ্য হিসেবে দেখা যাবে না। এটি বিশ্বের ফুটবলের অন্যতম সেরা ঐতিহ্য, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে খেলোয়াড়, জাতীয় দল এবং কোটি ভক্তের চেষ্টায় গড়ে উঠেছে। এর কোনো অংশ কোনো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।”
ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) উয়েফার এই কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছে, “বিশ্বকাপ ফুটবলেরই অংশ এবং সব সময় ফুটবলেরই থাকবে।” স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিরোধের কারণ ও প্রস্তাবিত পরিকল্পনা
ফিফা তাদের প্রধান প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (FFE) নামে একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চায়, যেখানে বেসরকারি বা বিশ্বস্ত তৃতীয় পক্ষকে সংখ্যালঘু শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেনচার ক্যাপিটাল ফার্ম ‘থ্রাইভ ইটার্নাল’ এই বিনিয়োগকারী দলের নেতৃত্ব দিতে পারে বলে জানা গেছে।
ইনফান্তিনো বিশ্বজুড়ে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, তারা যদি এই প্রস্তাব সমর্থন করে তবে প্রতিটি দেশ ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে। একই সঙ্গে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর একটি সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়।
উয়েফার অভিযোগ, ফিফা ফুটবলকে সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়ার মানসিকতা থেকে সরিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সহযোগীদের সমৃদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করছে। উয়েফা একে “হুমকি ও জোরজবরদস্তিমূলক শাসন” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ফিফার মোট ২১১টি সদস্যের মধ্যে উয়েফাভুক্ত দেশের সংখ্যা ৫৫টি হলেও বিশ্বের সেরা ফুটবল শক্তিগুলোর বড় অংশই ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত। এর আগে অনুষ্ঠিত শেষ তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের বেশিরভাগ দলই ছিল ইউরোপের। ২৩টি বিশ্বকাপের মধ্যে ১৩টি শিরোপাই জিতেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। ফলে উয়েফা যদি সত্যি এই বয়কট বাস্তবায়ন করে, তবে বিশ্ব ফুটবলে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হবে।
