![]()
চুক্তির পরও গাজায় থামছে না ইসরায়েলি তাণ্ডব: গভীর হতাশা প্রকাশ ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ দূতের
ইরান সমর্থিত হামাস গত সপ্তাহে একটি নিরস্ত্রীকরণ কাঠামো চুক্তিতে সম্মত হওয়া সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace)-এর শীর্ষ দূত। বুলগেরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং বর্তমানে বোর্ড অব পিসের মহাপরিচালক নিকোলে ম্লাদেনভ এক অনলাইন বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং রাষ্ট্রপতির পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের ক্ষেত্র তৈরি করতে আমার দল, আঞ্চলিক অংশীদার ও মধ্যস্থতাকারীদের সাথে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। একটি টেকসই শান্তি অর্জন কঠিন হলেও সবার সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে তা অর্জনযোগ্য।”
গত বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, কয়েক মাসের আলোচনার পর তার শান্তি বোর্ড একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে:
- 🕊️ চুক্তির শর্ত: গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে।
- 🚫 ইসরায়েলের অবস্থান: ইসরায়েলের উগ্র জাতীয়তাবাদী ও কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই চুক্তিকে “ইসরায়েলের জন্য অগ্রহণযোগ্য” আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি গাজায় হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রাখার এবং ফিলিস্তিনিদের দেশত্যাগে বাধ্য করার পক্ষে মত দেন।
আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা ও তুরস্কের ক্ষোভ
কাঠামো চুক্তি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA)-এর মতে, শুধুমাত্র রোববারেই ৪ শিশুসহ অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শান্তি চুক্তির আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ তুরস্ক রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তির ঘোষণার পরপরই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় ৩০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করে বলেছে, তিনি ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার এবং মধ্যপ্রাচ্যকে চিরস্থায়ী সংঘাতের অঞ্চলে পরিণত করার চেষ্টা করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর উদ্যোগকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
এদিকে, কাঠামো চুক্তির আলোচনায় যুক্ত থাকা নির্বাসিত ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ দাহলান জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু যে ডোনাল্ড ট্রাম্প, মিশর, কাতার ও তুরস্কের তৈরি করা এই শান্তির সুযোগকে “নস্যাৎ” করার চেষ্টা করবেন, তা তিনি আগেই জানতেন। দাহলান বলেন, “আজ পুরো বিশ্ব দেখছে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল সুযোগটিকে বাধাগ্রস্ত করতে নেতানিয়াহু কত বড় গণহত্যা চালাচ্ছেন।”
একনজরে: গাজা পরিস্থিতি ও বোর্ড অব পিস
| বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ | ২৮টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত জোট, যা গাজার স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের জন্য জাতিসংঘের ২০-দফা পরিকল্পনার সাথে যুক্ত। |
| গাজার ধ্বংসচিত্র | জাতিসংঘের তথ্যমতে গাজার ৮১% এরও বেশি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত। |
| পুনর্গঠন ব্যয় | ধ্বংসপ্রাপ্ত এই উপত্যকা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। |
| ভৌগোলিক পরিমাপ | ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী গাজা ২৫.৪ মাইল দীর্ঘ এবং ২.৭ থেকে ৭.৫ মাইল চওড়া। |
