Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৬ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

তালাকের অজুহাতে বন্ধ হবে না স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ: হাইকোর্ট

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
আগস্ট ৬, ২০২৬ ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

নিউজ প্রোভাইডার

আইনগত প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনুসরণ না করে কিংবা আদালতে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত শুধু ‘তালাক দেওয়া হয়েছে’—এমন অজুহাত দেখিয়ে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের আইনগত ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের পাওনা বা পারিবারিক আদালতের রায় বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই কঠোর আইনি পর্যবেক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান মামলাটি পরিচালনা করেন। এই রায়ের ফলে দেশে হাজার হাজার পারিবারিক মামলায় আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে আর্থিক কষ্টে ফেলার অসাধু প্রবণতা বন্ধ হবে বলে আশা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

মামলার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট ও আইনি ফাঁকফোকর

আমাদের দেশের পারিবারিক আদালতগুলোতে (Family Courts) প্রায়ই দেখা যায়, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হলে বা স্ত্রীর পক্ষ থেকে দেনমোহর ও খোরপোষের (ভরণপোষণ) মামলা দায়ের করা হলে, স্বামী তড়িঘড়ি করে নোটিশ পাঠিয়ে বা মৌখিক তালাকের দাবি তোলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক আদালত থেকে স্ত্রী ও সন্তানের অনুকূলে খোরপোষের রায় দেওয়া হলেও স্বামী হাইকোর্টে বা আপিল আদালতে গিয়ে দাবি করেন—‘যেহেতু স্ত্রীকে ইতোমধ্যে তালাক দেওয়া হয়েছে, তাই তালাকপরবর্তী সময়ে খোরপোষ বা অন্যান্য পাওনা পরিশোধে তিনি বাধ্য নন।’
অনেক ক্ষেত্রে নতুন মামলা ঠুকে দিয়ে বা আইনি নোটিশের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর আদেশ বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা হতো। এতে চরম বিপাকে পড়তেন অসহায় নারী ও তাঁদের নাবালক সন্তানরা। এই প্রথাগত জটিলতার নিরসন ঘটিয়েছেন উচ্চ আদালত।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে মহামান্য হাইকোর্টের ৪টি মূল পর্যবেক্ষণ

১. আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তালাকের কোনো ভিত্তি নেই:
হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ (Muslim Family Laws Ordinance, 1961) অনুযায়ী নোটিশ প্রদান, নোটিশ প্রাপ্তির ৯০ দিন সময় পার হওয়া এবং সালিশি পরিষদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা—এসব আইনি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন ও প্রমাণিত না হলে তালাক আইনিভাবে কার্যকর হয় না। কেবল দাবি করলেই বা চিঠি পাঠালেই তালাক সিদ্ধ হয় না। ফলে তালাকের অজুহাতে পাওনা আটকানো সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।
২. সন্তানের ভরণপোষণ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র অধিকার:
রায়ে বলা হয়, মা ও বাবার মধ্যে ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য বিরোধ যাই থাকুক না কেন, কিংবা তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটার প্রমাণ মিললেও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের বাধ্যবাধকতা থেকে বাবা কখনোই অব্যাহতি পেতে পারেন না। সন্তানের খোরপোষ কোনো শর্তাধীন বিষয়টি নয়; এটি শিশুর নিজ আইনগত অধিকার।
৩. পারিবারিক আদালতের রায় বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা:
স্ত্রী বা সন্তান যদি নিম্নোক্ত কোনো কারণে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন, তবে অকার্যকর বা মনগড়া তালাকের অজুহাত দিয়ে বিচারিক আদালতের রায় স্থগিত রাখা যাবে না। স্বামীর দায়িত্ব হবে আদালতের নির্ধারিত অর্থ নিয়মিত পরিশোধ করা।
৪. সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ:
আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, পুরুষ কর্তৃক মনগড়া তালাকের ভীতি দেখিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিঃস্ব করার প্রক্রিয়া রোধে আইনকে সবসময় জনকল্যাণমুখী ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ব্যারিস্টার ইশরাত হাসানের বক্তব্য

রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান বলেন:
“পারিবারিক আইন চর্চায় এই রায়টি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, স্ত্রী খোরপোষের রায় পাওয়ার পরপরই স্বামী একটি জাল বা অসম্পূর্ণ তালাকের কাগজ হাজির করে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিতেন। হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত ও কার্যকর তালাক ছাড়া এ ধরনের কোনো অজুহাত চলবে না। বাবা কোনো অবস্থাতেই তাঁর সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করতে পারবেন না। ফলে অসহায় নারী ও শিশুরা এখন দ্রুত ন্যায়বিচার ও আর্থিক সুরক্ষা পাবেন।”

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।