![]()
নারী বাসচালক হলেই আপত্তি কেন? লিঙ্গ নয়, দক্ষতা দিয়ে বিচার হোক
সম্প্রতি নারী বাসচালক ও হেলপার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পোস্ট ও কটূক্তি চোখে পড়ছে। নারীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, কটূক্তি এবং অবমাননাকর মন্তব্যগুলো আমাদের সমাজের একটি পুরোনো মানসিকতাকেই সামনে নিয়ে আসে। অথচ প্রশ্ন হলো—একজন নারী কেন বাস চালাতে পারবেন না? লিঙ্গ নয়, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ববোধ দিয়েই কোনো পেশায় যোগ্যতা নির্ধারিত হওয়া উচিত।
- লিঙ্গ নয়, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বিচার হোক
- শারীরিক শক্তির চেয়ে সক্ষমতা ও মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ
- নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে
- দ্বৈত মানসিকতা বর্জন করে নিরপেক্ষ সমালোচনা প্রয়োজন
- নারীকে ছোট নয়, মানুষ হিসেবে দেখা উচিত
‘নারী গাড়ি চালাতে পারে না’—এটা যুক্তি নয়
আমাদের সমাজে এখনো অনেকের ধারণা, গাড়ি চালানো বা ভারী যানবাহন পরিচালনা পুরুষের কাজ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, মনোযোগ এবং দায়িত্ববোধ। একজন পুরুষ চালক যেমন প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হন, একজন নারীও একইভাবে দক্ষ চালক হতে পারেন। শারীরিক শক্তির চেয়ে মনোযোগ ও সক্ষমতাই এখানে প্রধান। তাছাড়া, এই নারীরাই পরিবার ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তাদের দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
নারী বাসচালক ও হেলপার নিয়ে আপত্তির বদলে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবা দরকার
গণপরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হলে আমাদের দৃষ্টি শুধু ‘নারী কেন গাড়ি চালাচ্ছে’—এই প্রশ্নে আটকে থাকা উচিত নয়। বরং গণপরিবহন ব্যবস্থা কীভাবে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নারীবান্ধব করা যায়, সেটাই মূল ভাবনা হওয়া দরকার। আমাদের দেশে নারীদের গণপরিবহনে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। নারী চালক বা কর্মীসহ একটি সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্যই প্রশিক্ষণ, সিসিটিভি, আইন প্রয়োগ এবং যাত্রীদের সচেতনতাও এখানে জরুরি।
সমালোচনা করুন, কিন্তু অপমান নয়
কোনো নারী ভুল করলে অবশ্যই তার সমালোচনা করা যাবে। একজন নারী চালক যদি দায়িত্ব পালনে ভুল করেন, তবে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত—ঠিক যেমন একজন পুরুষ চালকের ক্ষেত্রে করা হয়। কিন্তু সমস্যাটা তখনই তৈরি হয়, যখন একজন নারীর কাজের ভুলকে তার নারী পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। দ্বৈত মানসিকতা বর্জন করে নিরপেক্ষ সমালোচনা প্রয়োজন।
আসল পরিবর্তনটা দরকার মানসিকতায়
আমাদের সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এখনো কিছু জায়গায় নারীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে দেখার বদলে তার চেহারা, পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা নারী পরিচয় দিয়ে বিচার করার প্রবণতা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নারীকে নিয়ে পোস্ট হলেই অশালীনতা, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়। এটা সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়। আজ যাকে বিদ্রূপ করছি, কাল হয়তো আমাদের নিজেদের মা, বোন, স্ত্রী কিংবা সন্তানও সেখানে থাকতে পারেন। তাদের কাজকে সম্মান করার সংস্কৃতি আমাদের তৈরি করতে হবে।
যোগ্যতা দিয়ে বিচার হোক, কাজ দিয়ে বিচার হোক
নারী বাস চালাবে কি না—এই প্রশ্নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত, তিনি প্রশিক্ষিত কি না, দক্ষ কি না এবং দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে পারছেন কি না। নারী পরিচয় দিয়ে বিচার নয়, বরং যোগ্যতা ও কাজ দিয়েই বিচার হোক। ভুল হলে ভুল বলা হোক, কিন্তু অপমান নয়। কারণ নারী কোনো দুর্বল শ্রেণি নয়। নারী আমাদের মা, বোন, সহকর্মী এবং সমাজেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। নারীদের ছোট নয়, একজন মানুষ হিসেবে দেখুন।
চিন্তা বদলান। দৃষ্টিভঙ্গি বদলান।
নারীদের ছোট নয়, একজন মানুষ হিসেবে দেখুন।
