![]()
নবম শ্রেণিতে ফেল করা সেই ইমরান আজ নাসার গবেষক: মঙ্গলগ্রহে খুঁজছেন বাসযোগ্য পরিবেশ
নরসিংদীর তরুণ আল ইমরানের শিক্ষাজীবনের গল্পটা কোনো মসৃণ রূপকথার মতো ছিল না; বরং শুরুটা ছিল চরম হতাশা ও ব্যর্থতায় মোড়ানো। নবম শ্রেণিতে ফেল করে একসময় স্কুল থেকেই ছিটকে পড়েছিলেন তিনি। এসএসসি ও এইচএসসিতে কোনো রকমে সাধারণ ফলাফল নিয়ে পার হলেও, আজ তিনি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) একজন গর্বিত গবেষক।
- 👤 গবেষক: আল ইমরান (নরসিংদী, বাংলাদেশ)।
- 🚀 বর্তমান অবস্থান: নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে পোস্টডক্টরাল ফেলো।
- 🌍 গবেষণার বিষয়: মঙ্গলগ্রহে (Mars) সম্ভাব্য বাসযোগ্য পরিবেশ অনুসন্ধান।
- 🎓 শিক্ষাগত অর্জন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ বিভাগে প্রথম স্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্লানেটারি সায়েন্সে পিএইচডি।
ব্যর্থতার গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজিমাত
স্কুল থেকে ঝরে পড়ার পর অনেকেই যখন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিল, ইমরান তখনো নিজের স্বপ্ন বুনে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থতা এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে একাধিক প্রত্যাখ্যান—কোনো কিছুই তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি। অদম্য জেদ আর কঠোর পরিশ্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান তিনি এবং অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে নিজ বিভাগে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
একনজরে: আল ইমরানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক
| শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ার | ফলাফল ও অর্জন |
|---|---|
| স্কুল জীবন (নবম শ্রেণি) | ফেল করে স্কুলছাড়া |
| এসএসসি ও এইচএসসি | সাধারণ ফলাফল |
| স্নাতক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) | অসাধারণ সাফল্য নিয়ে বিভাগে প্রথম স্থান |
| উচ্চশিক্ষা (যুক্তরাষ্ট্র) | প্লানেটারি সায়েন্সে পিএইচডি সম্পন্ন |
| ২০২৩ সাল – বর্তমান | নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে পোস্টডক্টরাল ফেলো |
নাসায় যোগদান ও মঙ্গলগ্রহ অভিযান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে ইমরান পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে প্লানেটারি সায়েন্সে (Planetary Science) উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পিএইচডি শেষ করার পর ২০২৩ সালে তিনি নাসার বিখ্যাত ‘জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি’ (Jet Propulsion Laboratory)-তে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে যোগদান করেন। নরসিংদীর সেই ছিটকে পড়া কিশোর আজ নাসার হয়ে মঙ্গলগ্রহে সম্ভাব্য বাসযোগ্য পরিবেশ ও প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন, যা শুধু তাঁর নিজের নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্যই এক বিরাট গর্বের বিষয়।
