![]()
ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট: সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি, চরম ভোগান্তিতে চালকরা
রাজধানী ঢাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। সিএনজি (CNG) ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। সরবরাহ কমে যাওয়া এবং লাইনে চাপ (Low pressure) না থাকায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উত্তরা, বাড্ডা, মিরপুর ও ডেমরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে গাড়ির দীর্ঘ সারি, যা নগরীর যাত্রী পরিবহনে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি করেছে।
- 🛑 মূল সমস্যা: গ্যাসের তীব্র সরবরাহ ঘাটতি ও লাইনে লো-প্রেসার।
- ⏳ অপেক্ষার সময়: ফিলিং স্টেশনগুলোতে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
- 📉 আর্থিক লোকসান: আয় কমেছে চালকদের, অন্যদিকে বিক্রি না থাকায় ক্ষতির মুখে মালিকরা।
- 📍 ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: উত্তরা, মিরপুর, গাবতলী, বাড্ডা, রামপুরা, সবুজবাগ ও ডেমরা।
এলাকাভিত্তিক গ্যাস সংকটের চিত্র
বাড্ডা, মিরপুর, ডেমরা এবং উত্তরায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। মেরুল বাড্ডার জামান ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় আশপাশের স্টেশনগুলোতে তীব্র যানজট দেখা গেছে। মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ ও খিলগাঁওয়ের অনেক স্টেশনে সরাসরি ‘গ্যাস নেই’ (No Gas) সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মিরপুরের গাবতলী, কল্যাণপুর ও কাজীপাড়ায় গ্যাসের চাপ এতই কম যে, চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না।
একনজরে: বিভিন্ন এলাকায় চালকদের ভোগান্তি
| এলাকা | বর্তমান পরিস্থিতি |
|---|---|
| সবুজবাগ ও খিলগাঁও | অনেক স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। |
| মিরপুর ও গাবতলী | গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম, দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সামান্য গ্যাস মিলছে। |
| ডেমরা | গ্যাস পেতে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে, দূরের যাত্রী নেওয়া বন্ধ। |
| উত্তরা | বেশিরভাগ স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ, সচল স্টেশনগুলোতে চরম ভিড়। |
চালকদের হতাশা ও আর্থিক চাপ
গ্যাস সংকটের কারণে একদিকে চালকদের দৈনিক উপার্জন তলানিতে ঠেকেছে, অন্যদিকে বিক্রি কমে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশন মালিকরাও লোকসানের মুখে পড়ছেন। চালকরা জানান, গ্যাসের অভাবে তারা দূরের গন্তব্যে যাত্রী নিতে পারছেন না। শান্ত ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষারত চালক কবির হোসেন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাস পাইনি। আয় না হলেও গাড়ির মালিককে দৈনিক ১২০০ টাকা জমা দিতেই হবে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।”
