![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক | TouchBangladesh
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফিল্ডস মেডেল জয়ীর রসিকতা:
গণিতের দুনিয়ায় ‘নোবেল পুরস্কার’ খ্যাত ফিল্ডস মেডেল জয়ী ৩৭ বছর বয়সী চীনা গণিতবিদ দেং ইউ জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যদি তাকে বেকার করে দেয়, তবে তিনি কী করবেন সে পরিকল্পনাও করে রেখেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি রসিকতা করে লেখেন, “এআই যদি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করেই দেয়, তাহলে আমি বাড়ি গিয়ে আমার ‘ইউরি’ উপন্যাস লিখব।” উল্লেখ্য, ‘ইউরি’ হলো জাপানি উপন্যাস ও কমিকসের একটি বিশেষ ধারা, যেখানে নারীদের মধ্যকার অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়, আর দেং এই ধারার একজন বড় ভক্ত।সংবাদের মূল বিষয়বস্তু👨🔬 গণিতবিদের বক্তব্য: এআই সব সমাধান করলে ‘ইউরি’ উপন্যাস লিখবেন ফিল্ডস মেডেল জয়ী দেং ইউ (পরবর্তীতে একে নিছক রসিকতা বলে নিশ্চিত করেছেন)।🤖 ওপেনএআইয়ের দাবি: আধুনিক গণিতের অমীমাংসিত ‘নেভিয়ার-স্টোকস মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম’ সমাধান করেছে তাদের মডেল।⏳ এআইয়ের খরচ: একটানা ৮৮ ঘণ্টা কাজে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন আউটপুট টোকেন (কয়েক মিলিয়ন ডলার) খরচ হয়েছে।⚠️ বিতর্ক: ওপেনএআই অন্য গণিতবিদদের (ট্রিস্টান বাকমাস্টার) গবেষণার ডেটা ও পদ্ধতি ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এআই নিয়ে গণিতবিদদের শঙ্কা ও ওপেনএআইয়ের বড় দাবিসাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেং ইউ অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি আপাতত কোনো উপন্যাস লিখছেন না; কথাটি নেহায়েতই রসিকতা ছিল। তাঁর বিশ্বাস, এআই সহসাই গণিতের সব জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। তবে গণিতবিদদের একাংশের মধ্যে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা দানা বাঁধছে। এর মধ্যেই গত ৮ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই দাবি করে, তাদের একটি অপ্রকাশিত পরবর্তী প্রজন্মের মডেল ব্যবহার করে ‘নেভিয়ার-স্টোকস মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম’-এর সমাধান করা হয়েছে। ২০০০ সালে ঘোষিত গণিতের সাতটি বড় চ্যালেঞ্জের একটি হলো এটি, যার প্রতিটি সমাধানের জন্য ১ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে।একনজরে: মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম ও সমাধান বিতর্কবিষয়বিস্তারিত তথ্যমিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম২০০০ সালে ঘোষিত আধুনিক গণিতের ৭টি অমীমাংসিত ও জটিল প্রশ্ন।ওপেনএআইয়ের দাবিপরবর্তী প্রজন্মের মডেল দিয়ে ‘নেভিয়ার-স্টোকস’ সমস্যার সমাধান।ট্রিস্টান বাকমাস্টারের অভিযোগওপেনএআই তাদের অগ্রগতির খবর জেনেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করে সমাধান করেছে।আমেরিকান ম্যাথমেটিকাল সোসাইটির মতঅন্যরা যুগান্তকারী সাফল্য পেলেও চূড়ান্ত প্রমাণটি ওপেনএআইয়ের গণিতবিদরাই সম্পন্ন করেছেন।
ওপেনএআইয়ের দাবি বনাম বাকমাস্টারের অভিযোগ:
এই যুগান্তকারী সমাধানের খবর সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গণিতের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার দাবি করেন, তিনি ও তার সহযোগী লেভেন্ট আলপোগে আগেই নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা সমাধানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘অয়লার সমীকরণ’ প্রমাণ করেছিলেন, যেখানে ওপেনএআইয়ের মডেলও ব্যবহৃত হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এক সপ্তাহ আগে তাদের অগ্রগতির বিষয়টি জানতে পেরেই ওপেনএআই তাড়াহুড়ো করে তাদের পদ্ধতি ব্যবহার করে পুরো সমস্যাটি সমাধান করে। তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অয়লার সমীকরণগুলো প্রমাণ করেছে। যদিও অন্যান্য গণিতবিদদের ব্যবহার করা ‘নাম-পরিচয়হীন ডেটা’ তাদের মডেলের মান বাড়াতে সাহায্য করার বিষয়টি তারা পুরোপুরি অস্বীকার করেনি।
