![]()
খেলাধুলা
আড়ালে থেকে যাওয়া এক মহানায়ক: আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা
তাকে বলা হতো ‘দ্য সাইলেন্ট ওয়াল অব মিলান’। ফুটবলের পাতায় যিনি কখনো গ্ল্যামারের পেছনে ছোটেননি। একজন নিখাদ ভদ্রলোক, যিনি নিজের নাম লিখেছেন রূপকথার অক্ষরে, অথচ নায়ক হয়েও থেকে গেছেন আড়ালে। তিনি আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা — মিলানের সেই শান্ত, চতুর ও আস্থার শেষ ঠিকানা।
১৯৮৬ থেকে ২০০৭ — দীর্ঘ দুই দশক এক ক্যারিয়ারেই একটি ক্লাবের ঐতিহ্য বয়ে গেছেন কোস্তাকুর্তা। এসি মিলানের লাল-কালো জার্সিটাই ছিল তাঁর প্রথম ও শেষ ভালোবাসা। ফ্রাঙ্কো বারেসি ও পাওলো মালদিনির সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছিলেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা সেই রক্ষণভাগ। ফ্যাবিও কাপেলোর অধীনে সেই ডিফেন্স লাইন দেখে ইউরোপের বড় বড় আক্রমণভাগও ভয়ে কাঁপত।
“তিনিই আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা — ‘দ্য সাইলেন্ট ওয়াল অব মিলান’।”
১৯৬৬ সালের ২৪ এপ্রিল জন্ম নেওয়া এই ইতালিয়ান মায়েস্ত্রো এসি মিলানের হয়ে জিতেছেন সাতটি সিরি আ এবং পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য ট্রফি।
২০০৭ সালের ১৯ মে, ৪১ বছর বয়সে বুট জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন কোস্তাকুর্তা। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে উদিনেসের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি হয়েছিলেন সিরি আ-র সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা। সেই রেকর্ড টিকে ছিল দীর্ঘ ১৬ বছর।
ইতালি জাতীয় দলের হয়েও ১৯৯০-এর দশকে ছিল তাঁর অসামান্য অবদান। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সেই স্মরণীয় যাত্রায় কোস্তাকুর্তাও ছিলেন আজ্জুরিদের রক্ষণের বিশ্বস্ত প্রহরী।
চতুর্দিকের হইচইয়ের মাঝে যিনি নীরবে বদলে দিয়েছিলেন ডিফেন্ডিংয়ের সংজ্ঞা, তিনিই আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা — ‘দ্য সাইলেন্ট ওয়াল অব মিলান’।
