![]()
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজ নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়, ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সশস্ত্র সংঘাত এবং সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই হালনাগাদ তথ্যে সৌদির জন্য ‘লেভেল থ্রি’ (ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা) সতর্কতা জারি করা হয়। সম্প্রতি পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণাঞ্চলে একটি ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনার পরপরই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নেয়। বর্তমানে সৌদিতে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকলেও বিভিন্ন সময় বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে সম্পূর্ণ ‘ভ্রমণ নিষিদ্ধ’ বা ‘লেভেল ফোর’ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের জন্য ইয়েমেন সীমান্ত থেকে ২০ মাইলের মধ্যে যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এছাড়া কতিফ, জিজান, আসির ও নাজরানের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোয় যাতায়াতের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন নির্দেশনায় বলা হয়, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, হোটেল ও পর্যটন কেন্দ্রের মতো জনবহুল এলাকাগুলো যেকোনো সময় সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সৌদির কঠোর সাইবার আইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নজরদারির বিষয়েও নিজ নাগরিকদের সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারের সমালোচনা করা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কোনো তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি দেশে প্রবেশের আগের পুরোনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কারণেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।
এছাড়া কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় যুক্ত হয়ে পড়লে বিদেশি নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (এক্সিট ব্যান) আরোপ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
