![]()
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১৭২ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বাংলাদেশের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের তদন্তে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের নিজের এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও তিনজনের নামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার বৈধ আয়ের বিপরীতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি টাকার বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে।
আসামিদের তালিকায় থাকা অন্য তিনজন হলেন—আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং আত্মীয় পরিচয়ে থাকা মোহাম্মদ ইকবাল।
দুদকের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
-
জেবুন্নেসা বেগম হক: সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআরসহ প্রায় ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার সম্পদ।
-
শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম: সিটিজেনস ব্যাংকের প্রায় ২০ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার।
-
মোহাম্মদ ইকবাল: ব্যাংকটিতে থাকা প্রায় ৪০ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, আসামিরা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তিনিই বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেন।
