![]()
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১–দলীয় বিরোধী জোটের একের পর এক বিভাগীয় লংমার্চ ও গণকর্মসূচির ওপর সতর্ক নজর রাখছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। তবে এসব তৎপরতাকে এই মুহূর্তে বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বা সংকট হিসেবে বিবেচনা করছেন না দলটির শীর্ষ নেতারা। বিরোধী জোটে পাল্টাধাওয়া বা রাজপথের পাল্টা কর্মসূচিতে না গিয়ে সরকার পরিচালন, জ্বালানি সংকট নিরসন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরই জোর দিচ্ছে বিএনপি।
- 🚗 ধারাবাহিক লংমার্চ: চট্টগ্রাম ও রংপুরের পর খুলনা ও সিলেট অভিমুখে ১১-দলীয় জোটের রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত।
- 🗣️ বিএনপির অবস্থান: ‘লংমার্চকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে দেখছি, পাল্টা কর্মসূচির কোনো প্রয়োজন নেই’—রুহুল কবির রিজভী।
- 🏛️ প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য: লংমার্চ করে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের সংকট সমাধান সম্ভব নয় বলে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
- ⚡ জামায়াতের পাল্টা তোপ: বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার সাংগঠনিক সক্ষমতা ও নৈতিক অবস্থান নেই—হামিদুর রহমান আযাদ।
লংমার্চকে গণতান্ত্রিক চর্চা হিসেবে দেখছে বিএনপি, নেই পাল্টা কর্মসূচি
জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ একাধিক দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করে ১১-দলীয় জোট। বিরোধীদের এই বিশাল শো-ডাউনকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, রাজপথে কর্মসূচি পালন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থারই অংশ। সরকারের দায়িত্বে থেকে বিরোধীদের মোকাবিলায় পাল্টা সমাবেশ করার চেয়ে সংকট সমাধানই মূল অগ্রাধিকার।
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তি এবং জামায়াত আমিরের প্রতিরোধ বার্তা
লংমার্চের যৌক্তিকতা নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সংকটের সমাধান করা যেত, তবে সরকারই আগে লংমার্চের আয়োজন করত। অন্যদিকে, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিভিন্ন পথসভায় কড়া বক্তব্য দিয়ে জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান না হলে যেখানেই বাধা আসবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়া হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদও দাবি করেছেন যে, বিএনপির আর আগের সেই নৈতিক অবস্থান নেই।
ক্ষমতাসীন দলের অগ্রাধিকার পরিবর্তন ও মাঠের সাংগঠনিক চিত্র
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর ক্ষমতায় আসায় বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার আমূল বদলেছে। রাজপথের আন্দোলনের বদলে এখন সংসদ, মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনিক কাজ সামলানোই দলীয় প্রধানদের মূল দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে বিরোধীদের ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় মাঠপর্যায়ে কিছুটা সীমিত প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরের একটি অংশও চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।
বিরোধী জোটের লংমার্চ ও সরকারের কৌশলগত অবস্থান
| রাজনৈতিক পক্ষ | ঘোষিত কর্মসূচি ও লক্ষ্য | নেতৃত্বের মূল মন্তব্য/অবস্থান |
|---|---|---|
| বিএনপি (সরকার) | পরিস্থিতি নজরদারি, সংঘাত এড়ানো ও সমাধানমুখী নীতি। | “গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা যেত, তবে আমরাই আগে করতাম।” — তারেক রহমান |
| জামায়াত ও ১১-দলীয় জোট | চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেটে পর্যায়ক্রমিক লংমার্চ। | “সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি ও নৈতিক অবস্থান নেই।” — এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ |
