![]()
ময়মনসিংহে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ভুয়া পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর বাইপাস এলাকার নটরডেম কলেজের পেছনের একটি নির্জন স্থান থেকে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ময়মনসিংহ নগরীর আল-আমীন (২০), দিদারুল ইসলাম (৫৮), পিয়াস মিয়া (২২), শেরপুরের নকলা উপজেলার ফারুক আহম্মেদ (৩৫) এবং দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার শামীম ইসলাম (৩৫)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শামীম ইসলাম ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে ছুটিতে এসে তিনি আর কর্মস্থলে ফেরেননি। অন্যদিকে ফারুক আহমেদ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে মাস্টাররোলে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত এবং তিনি নিজেকে ডিবি পরিচয়ে পরিচয় দিতেন।
অপহৃত ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ (৩০) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পনঘাগড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি চুরখাই বাজারে গো-খাদ্যের ব্যবসা করেন।
যেভাবে ঘটে অপহরণের ঘটনা
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, শুক্রবার দুপুরে এক আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার সময় চুরখাই এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। তারা নিজেদের ডিবি ও ডিজিএফআই সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রথমে তার মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়।
এরপর তাকে অন্য একটি মোটরসাইকেলে বসিয়ে নটরডেম কলেজের পেছনে জালালের মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন নির্জন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় চক্রটি।
টহল পুলিশের অভিযানে উদ্ধার
ঘটনার সময় বাইপাস এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের টহল দল তিনজনের গতিবিধি দেখে সন্দেহ করে। কিছুক্ষণ পর পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ডাকচিৎকার শুনতে পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে অভিযান চালায়।
কোতুয়ালী মডেল থানার এএসআই কাদিরুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে চারজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অপহৃত ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলসহ আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
কোতুয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জানান, এটি একটি সক্রিয় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। তারা ভুয়া পরিচয় দিয়ে নিরীহ মানুষকে ধরে এনে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করত।
গ্রেফতারকৃত সাবেক সেনা সদস্য শামীম ইসলামকে মোমেনশাহী ক্যান্টনমেন্টে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অপর চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপহৃত ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
