Touch Bangladesh
ঢাকাশনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘টার্গেট মিসাইল’ হামলা: চরম ঝুঁকিতে কিয়েভ

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৩:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

ক্রিয়েভের উপকণ্ঠে ব্রোভারি জেলার একটি রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে রক্তে রঞ্জিত সাধারণ মানুষের মরদেহগুলো ইউক্রেন যুদ্ধের এক নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ জন নিহত হন। তবে এটি রাশিয়ার কোনো মূল নির্ভুল ‘ইস্কান্দার’ (Iskander) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল না; বরং আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু অনুশীলনের জন্য তৈরি কম নিখুঁত টার্গেট মিসাইল ‘RM48U’-কে মারণাস্ত্রে রূপান্তর করে হামলাটি চালানো হয়েছে। রয়টার্সের পর্যালোচিত ইউক্রেনীয় সামরিক ডেটা অনুসারে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া এই ধরনের রূপান্তরিত টার্গেট মিসাইলের গণব্যবহারের মাধ্যমে বিমান হামলাকে রেকর্ড মাত্রায় নিয়ে গেছে।

রাশিয়ার নতুন রকেট কৌশল ও ইউক্রেন সংকটের সারসংক্ষেপ

  • 🚀 টার্গেট মিসাইলের গণব্যবহার: জুলাই ও আগস্টের শুরুতে ইউক্রেনে ছোড়া ২২৮টি ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেকেরও বেশি ছিল পুনর্গঠিত ‘RM48U’ টার্গেট মিসাইল।
  • 🛡️ কুরবানি হচ্ছে না প্রধান স্টক: জিরকন, কেএন-২৩ ও ইস্কান্দারের মতো অত্যাধুনিক মিসাইল শীতকালীন বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য বাঁচিয়ে রাখছে মস্কো।
  • 📉 ইউক্রেনের পেট্রিয়ট শূন্যতা: মার্কিন তৈরি পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুত প্রায় শেষ, নতুন চালান পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের কাছে চলে যাওয়ায় কিয়েভ চরম অরক্ষিত।
  • ⚠️ বেসামরিক হতাহত বৃদ্ধি: কম নির্ভুলতার কারণে RM48U প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিশাল এলাকায় ধাতব স্প্লিন্টার ছড়িয়ে ভারী বেসামরিক ক্ষতি করছে।

কিয়েভের কাছে রেল স্টেশনে ধ্বংসযজ্ঞ ও ‘RM48U’ রকেটের ক্ষমতা

ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (GUR) জানায়, ‘আরএম-৪৮ইউ’ (RM48U – ‘রাকেতা মিশেন’ বা মিসাইল টার্গেট) মূলত এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের টার্গেট প্র্যাকটিসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো দ্রুতগতিতে ব্যালিস্টিক ট্র্যাজেক্টরিতে উড়ায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে বিভ্রান্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে এগুলো ইস্কান্দারের মতো নিখুঁত নয় এবং লক্ষ্যবস্তু থেকে গড়ে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে আছড়ে পড়ে। গর্ত, ধাতব টুকরো এবং প্ল্যাটফর্মের ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণ করে ফরেনসিক তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে ব্রোভারি রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে এই মিসাইলটিই ব্যবহার করা হয়েছিল।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ ও শীতকালীন অভিযানের চক্রান্ত

লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাংক ‘রুসি’ (RUSI)-এর জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো সিদ্ধার্থ কৌশল ব্যাখ্যা করে জানান, সস্তা ও কম নিখুঁত RM48U ব্যবহার করে ইউক্রেনের অবশিষ্ট পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ফুরিয়ে ফেলাই রাশিয়ার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি এর মাধ্যমে খাদ্য গুদাম ও কম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি করা হচ্ছে। এতে রাশিয়া তার আসল নিখুঁত ও শক্তিশালী ইস্কান্দার, উত্তর কোরিয়ান কেএন-২৩ এবং হাইপারসনিক জিরকন মিসাইলগুলোকে শীতকালের জন্য জমিয়ে রাখতে পারছে—যখন তারা ইউক্রেনের জ্বালানি ও হিটিং গ্রিডে ভারী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।

পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকট ও কিয়েভের আঁকুতি

ইউক্রেন বর্তমানে তাদের একমাত্র ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষাকারী মার্কিন তৈরি ‘পেট্রিয়ট’ মিসাইলের তীব্র অভাবে ভুগছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং মার্কিন বাহিনীর নিজস্ব প্রয়োজনে বেশিরভাগ পেট্রিয়ট সেদিকে পাঠানোয় কিয়েভ পর্যাপ্ত নতুন সরবরাহ পাচ্ছে না। গত জুলাই মাসেই ইউক্রেনে ৪৩৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত পেট্রিয়ট ব্যবস্থা চেয়ে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন।

রাশিয়ার রকেট ব্যবহারের পরিসংখ্যান ও মিসাইলের পার্থক্য

ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন কৌশলগত বৈশিষ্ট্য ও নির্ভুলতা বর্তমান মজুদ ও উৎপাদন অবস্থা
RM48U (টার্গেট মিসাইল) এস-৪০০ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য, ৩০০ মিটার লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার ঝুঁকি, সস্তা ও ছররা আঘাত। মজুদ ~৪০০টি। এ বছর উৎপাদন বাড়িয়ে ৪৮০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য।
ইস্কান্দার-এম (Iskander-M) অত্যন্ত নির্ভুল গাইডেড ব্যালিস্টিক মিসাইল, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ও প্রাথমিক স্ট্রাইক অস্ত্র। মজুদ মাত্র ~১০০টি। বছরে প্রায় ৭৫০টি উৎপাদন সক্ষমতা।
জিরকন ও কেএন-২৩ (Zircon & KN-23) হাইপারসনিক ও বিশেষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও বিধ্বংসী। শীতকালীন বড় অভিযানের জন্য সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্রঃ রয়টার্স

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।