![]()
থাইল্যান্ডেব তাক (Tak) প্রদেশের মাটির তলদেশে বিশাল এক প্রাচীন বৃক্ষের জীবাশ্মীভূত কাণ্ড খুঁজে পেয়েছেন প্রত্ন-উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, কাণ্ডটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৯.৭ মিটার, যা একটি ২০ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এই জীবাশ্ম কাঠটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম জীবাশ্ম কাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিকায় এই কাণ্ডের বিস্ময়কর ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এটি নিয়ে পুনরায় নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
- 📏 অবিশ্বাস্য পরিমাপ: জীবাশ্ম কাণ্ডটির মোট দৈর্ঘ্য ৬৯.৭ মিটার (প্রায় ২২৮ ফুট), যা ২০ তলা ইমারতের সমান উঁচু।
- ⏳ ঐতিহাসিক বয়স: প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বছরেরও প্রাচীন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সাক্ষী এই বৃক্ষখণ্ড।
- 🌿 বিলুপ্ত ‘থং বুয়েং’ প্রজাতি: এটি প্রাচীন ‘Thong Bueng’ প্রজাতির গাছ, বর্তমান উত্তর থাইল্যান্ডে যার কোনো অস্তিত্ব নেই।
- 🏆 গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস: ২০০৩ সালে আবিষ্কৃত হলেও ২০২২ সালের জুলাইয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম জীবাশ্ম হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড লাভ করে।
২০০৩ সালের আবিষ্কার থেকে ২০২২ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস
বিশালাকার এই গাছের কাণ্ডটি প্রথম ২০০৩ সালে থাইল্যান্ডের তাক প্রদেশের জঙ্গলঘেরা এলাকায় মাটি খুঁড়ে আবিষ্কার করা হয়। এরপর দীর্ঘ দুই দশকের কাছাকাছি সময় ধরে থাই ও আন্তর্জাতিক গবেষকেরা কাণ্ডটির বয়স, প্রজাতি ও গঠন নিয়ে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। অবশেষে ২০২২ সালের জুলাই মাসে ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম অক্ষত জীবাশ্মীভূত গাছের কাণ্ড (World’s Longest Fossilized Tree Trunk) হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করে।
বিলুপ্ত ‘থং বুয়েং’ প্রজাতি ও পাথরে রূপান্তরের রহস্য
উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, উদ্ধার হওয়া গাছটি প্রাচীন ‘থং বুয়েং’ (Thong Bueng) প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। তবে ভৌগোলিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আধুনিক উত্তর থাইল্যান্ড বা তার আশপাশের অঞ্চলে এই প্রজাতির গাছের অস্তিত্ব অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। ভূতাত্ত্বিকদের ধারণা, লক্ষাধিক বছর আগে কোনো এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা পলিমাটির চাপে গাছটি ভূগর্ভে চাপা পড়ে যায়। পরবর্তীতে অক্সিজেনহীন পরিবেশে খনিজ পদার্থের প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর ধরে জৈব কাঠ শক্ত পাথুরে জীবাশ্মে রূপান্তরিত হয়।
সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোড়ন ও পর্যটন কেন্দ্র
যদিও ২০২২ সালে বিশ্ব রেকর্ড অর্জিত হয়েছিল, তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ২০ তলা ভবনের সমান এই পাথুরে কাঠটির পরিমাপ ও ছবি পুনরায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকলে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রত্নতত্ত্ব অনুরাগী ও পরিবেশপ্রেমীদের জন্য স্থানটি সংরক্ষণের পাশাপাশি বিশেষ প্রাকৃতিক জাদুঘর হিসেবে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
থাইল্যান্ডের জীবাশ্ম কাণ্ড সংক্রান্ত এক নজরে মূল উপাত্ত
| বিভাগ | তথ্য ও বিবরণ | বিশেষ মন্তব্য |
|---|---|---|
| অবস্থান ও স্থান | তাক (Tak) প্রদেশ, উত্তর থাইল্যান্ড। | ভূগর্ভস্থ বিশেষ সংরক্ষিত প্রাক-ঐতিহাসিক অঞ্চল। |
| দৈর্ঘ্য ও প্রজাতি | ৬৯.৭ মিটার (২২৮ ফুট); প্রজাতি: ‘থং বুয়েং’। | আধুনিক যুগে প্রজাতিটি বিলুপ্ত। |
| আনুমানিক বয়স | ১,২০,০০০ (১ লাখ ২০ হাজার) বছরের বেশি। | প্লাইস্টোসিন যুগের প্রাকৃতিক নিদর্শন। |
| স্বীকৃতি প্রাপ্তি | গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (জুলাই, ২০২২)। | বিশ্বের দীর্ঘতম জীবাশ্ম কাঠের খেতাব। |
