![]()
বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন করার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাট লঞ্চ ঘাটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ব্যতিক্রমী সামাজিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। নদীতে বা তীরের আবর্জনা ও প্লাস্টিক কুড়িয়ে এনে সুসজ্জিত একটি ভাসমান লঞ্চ-বাজারে জমা দিলেই উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।
- 🎁 বর্জ্যে মিলবে নিত্যপণ্য: নদীতে ও তীরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক ও আবর্জনা কুড়িয়ে এনে ভাসমান বাজারে জমা দিলে উপহার মিলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য।
- 🚢 লঞ্চে ভাসমান বাজার: একটি আস্ত লঞ্চকে সুসজ্জিত করে সোয়ারীঘাট এলাকায় সাময়িকভাবে এই ব্যতিক্রমী বাজার তৈরি করা হয়েছে।
- ⚡ বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন: দ্রুতই বর্জ্য রিসাইক্লিং করে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কম্পোস্ট সার ও ডিজেল উৎপাদনের প্রাথমিক কাজ শুরুর ঘোষণা ডিএসসিসির।
- 🧹 ৩ মাসের বিশেষ ডেঙ্গু ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডেই প্রতিদিনের কাজের সাথে প্রতি শনিবারে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা।
বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো এবং নদী তীরের মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, “প্রাচীন ঢাকা এই বুড়িগঙ্গার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল। তবে অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ফেলা ও অবৈধ দখলের কারণে নদীটি আজ বিপন্ন। একদিনে হয়তো বুড়িগঙ্গার সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না, তবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নদীর তীরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে চাই।” তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরই ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে (বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ) দ্রুত নৌ-চলাচলের উপযোগী ও পুনরুজ্জীবিত করার তাগিদ দিয়েছেন।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
আবর্জনাকে সম্পদে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বর্জ্য রি-সাইক্লিং করে বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস, কম্পোস্ট সার এবং ডিজেল উৎপাদনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের রূপরেখা দৃশ্যমান হবে। ময়লা-আবর্জনা যখন সম্পদে পরিণত হবে, তখন শহরের যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলে রাখার প্রবণতা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।
৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু বিরোধী কড়া ব্যবস্থা
বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডেই টানা তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসক জানান, প্রতিদিনের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি প্রতি শনিবার ওয়ার্ডগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে কিংবা কর্তব্যে অবহেলা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ও বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য ও উদ্যোগ | উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ |
|---|---|---|
| আয়োজক প্রতিষ্ঠান | ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। | প্রধান অতিথি: মো. আবদুস সালাম (ডিএসসিসি প্রশাসক)। |
| স্থান ও সময় | সোয়ারীঘাট লঞ্চ ঘাট, বুড়িগঙ্গা নদী; ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। | বিশেষ অতিথি: হামিদুর রহমান (এমপি, ঢাকা-৭)। |
| পণ্য ও বিনিময় | নদী তীরের ফেলে দেওয়া বর্জ্যের বিনিময়ে পরিবারপ্রতি প্রয়োজনীয় মুদি উপহার। | ডিএসসিসি সিইও মো. খয়বর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। |
| বিশেষ অভিযান | ৩ মাসের ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিধন ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। | ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রতি শনিবারে বিশেষ আদালত। |
