![]()
লিওনেল মেসিকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আলবিসেলেস্তেদের দায়িত্ব নিয়ে তিনি কত দিন থাকবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি এই বিশ্বকাপজয়ী কোচ।
আসন্ন ফিফা উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচ উপলক্ষে বুয়েন্স আইরেসে পৌঁছানোর আগে এশিয়ার গণমাধ্যম ‘মিগু’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি জানান, তিনি নিজে কোচের দায়িত্বে থাকবেন কি না, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো দলটির চলমান পথচলা।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়ে স্কালোনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করে যাব—আমরা দায়িত্বে থাকি বা না থাকি। সেটাই আসল কথা নয়।”
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকার কথা রয়েছে স্কালোনির। এমনকি আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) চায় ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনিই দলের হাল ধরে রাখুন। তাই স্কালোনি নিজে সরে না দাঁড়ালে তার পদ ছাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে এমন সময়ে তাঁর মুখ থেকে অনিশ্চয়তার কথা শুনে ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
নতুনদের সুযোগ দেওয়ার নতুন অধ্যায়
সেপ্টেম্বরের এই উইন্ডোর জন্য দলে বেশ কিছু নতুন মুখ ডেকেছেন স্কালোনি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আর্জেন্টিনা দলে এখন এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
দলে তরুণের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। যারা পারফর্ম করছে, তাদের আমরা সুযোগ দেব এবং তারা সত্যিই এটার যোগ্য। আগামী ম্যাচগুলোতে আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে এমন তরুণদের সুযোগ দেওয়া, যারা আমাদের খেলার ধারার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।”
বয়সকে পারফরম্যান্সের মাপকাঠি হিসেবে দেখতে নারাজ স্কালোনি। তিনি জানান, ক্লাবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং জাতীয় দলে তাদের প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করেই দলে জায়গা দেওয়া হবে। “বয়স কোনো বিষয় নয়। আমরা চাই এমন একটি দল গঠন করতে, যারা দীর্ঘ মেয়াদে এই জার্সির সম্মান ধরে রাখতে পারবে,” যোগ করেন তিনি।
কোপা আমেরিকার পর সংশয় ও মানসিক চাপ
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকা জয়ের পর তৈরি হওয়া কঠিন পরিস্থিতির কথাও স্মৃতিচারণ করেন স্কালোনি। তাঁর মতে, টানা সাফল্য পাওয়ার পর সেই মান ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
“সব শিরোপা জেতার পর বিশ্বকাপের দুই বছর আগে থেকে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে আবারও সেই জায়গায় ফিরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব—আমরা সেটা প্রমাণ করেছি,” বলেন স্কালোনি।
দলের প্রতি সমর্থকদের যে প্রত্যাশা ও আবেগ তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। “শিরোপা বারবার জেতা বড় কথা নয়, মানুষের এই আবেগ ধরে রাখাই কঠিন কাজ। আমার মনে হয় এটা আবার চেষ্টা করা কঠিন হবে। তবে একজন কোচ হিসেবে আমাদের জানতে হবে পরিস্থিতি কতটা কঠিন। তবুও আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কঠিন সিদ্ধান্ত
বিগত সময়গুলোর দল নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনা টানেন স্কালোনি। তিনি জানান, অতীতে সিংহভাগ খেলোয়াড় পুরোপুরি সুস্থ থাকলেও পরবর্তী সময়ে অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
খেলোয়াড়দের ওপর আস্থার কথা উল্লেখ করে স্কালোনি বলেন, “আমাদের অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে যারা দীর্ঘ আট বছর ধরে দলের জন্য সবকিছু উজার করে দিয়েছে, তাদের ওপর আস্থা রাখাটা জরুরি ছিল। একজন ফুটবলার হিসেবে স্কিলের চেয়ে মানুষ হিসেবে তাদের অবদান আমাদের কাছে সবসময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
