Touch Bangladesh
ঢাকারবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

আইইএলটিএসে ৯ ব্যান্ড পেয়েছেন রাইসা, জানালেন প্রস্তুতির পরামর্শ

প্রতিবেদক
Louis Daru
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

আইইএলটিএসে ৯ ব্যান্ড পেয়েছেন রাইসা, জানালেন প্রস্তুতি ও সাফল্যের পরামর্শ

আইইএলটিএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৯ ব্যান্ড অর্জন করেছেন রাইসা শাম্মা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস প্রোগ্রামে পড়াশোনা করছেন।

উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনের প্রয়োজনেই আইইএলটিএস পরীক্ষা দিয়েছিলেন রাইসা। তাঁর মতে, পরীক্ষার আগে অল্প সময়ের প্রস্তুতির চেয়ে দীর্ঘদিনের ভাষাচর্চা, নিয়মিত পড়াশোনা এবং ইংরেজির সঙ্গে অভ্যস্ত থাকাটাই ভালো ফলের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।

রাইসা মনে করেন, ইংরেজিতে দক্ষতা একদিনে তৈরি হয় না। ছোটবেলা থেকে ইংরেজি বই পড়া, সিনেমা ও বিভিন্ন কনটেন্ট দেখা এবং ভাষাটি নিয়মিত ব্যবহারের অভ্যাস ধীরে ধীরে তাঁর দক্ষতা তৈরি করেছে।

🎧 লিসেনিংয়ে নিয়মিত ইংরেজি শোনার অভ্যাস

রাইসার মতে, লিসেনিং দক্ষতা বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত ইংরেজি শোনা। ছোটবেলা থেকেই তিনি ইংরেজি অনুষ্ঠান, সংবাদ, সিনেমাসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট দেখতেন।

শুরুর দিকে সব কথা বোঝা কঠিন হলেও প্রথমে সাবটাইটেল ব্যবহার করে এবং পরে সাবটাইটেল ছাড়াই বোঝার চেষ্টা করতেন। এতে বিভিন্ন উচ্চারণ, শব্দ ও বাক্যের ধরন সম্পর্কে তাঁর শ্রবণ-অভ্যাস তৈরি হয়।

যারা নতুন করে ইংরেজি শেখা শুরু করছেন, তাদের সহজ কনটেন্ট দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অ্যানিমেশন, সহজ গল্প, পডকাস্ট বা সংবাদ শোনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে দক্ষতা বাড়ানো যেতে পারে।

তবে আইইএলটিএস লিসেনিংয়ের জন্য শুধু ভাষা বোঝার দক্ষতাই যথেষ্ট নয়। পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কেও ধারণা থাকা জরুরি। নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা নির্দিষ্ট তথ্য শোনার সময় সামান্য অসাবধানতাতেও ভুল হতে পারে। তাই নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাইসা।

📚 রিডিংয়ে বই পড়ার বিকল্প নেই

রাইসার ইংরেজি রিডিং দক্ষতা তৈরিতেও বই পড়ার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ছোটবেলা থেকেই বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষার বই পড়তেন তিনি। সহজ বই দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে কঠিন লেখার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ভোকাবুলারি বা শব্দভান্ডার বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু শব্দের অর্থ মুখস্থ করার চেয়ে সেটি বাক্যে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা বোঝাকে বেশি কার্যকর মনে করেন তিনি।

আইইএলটিএস রিডিংয়ে পুরো প্যাসেজ বারবার পড়ার পরিবর্তে আগে লেখাটির মূল বক্তব্য বোঝা এবং পরে প্রশ্ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন রাইসা। এতে সময়ের ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে।

তাঁর মতে, রিডিংয়ের অভ্যাস শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতিই নয়, বিশ্লেষণী চিন্তা ও নিজের বক্তব্য প্রকাশের দক্ষতাও বাড়াতে সাহায্য করে।

✍️ রাইটিংয়ে কঠিন শব্দের চেয়ে পরিষ্কার উপস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ

আইইএলটিএসের রাইটিং অংশকে অনেক পরীক্ষার্থী কঠিন মনে করেন। রাইসার অভিজ্ঞতা হলো, এখানে শুধু ইংরেজি জানা যথেষ্ট নয়; নিজের চিন্তাকে সঠিক কাঠামোয় সাজিয়ে প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন বিষয় পড়ে তার সারাংশ লেখা, নতুন শব্দ নোট করা এবং নিজের চিন্তা লিখে রাখার অভ্যাস করতেন। তাঁর মতে, এই ছোট ছোট অনুশীলন পরবর্তীতে বড় কাজে এসেছে।

রাইটিংয়ের জন্য গ্রামারের মৌলিক বিষয়গুলো পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে বাক্য গঠন, টেন্স এবং subject-verb agreement ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।

রাইসার মতে, ভালো লেখার জন্য অপ্রয়োজনীয় কঠিন শব্দ ব্যবহার করার চেয়ে পরিষ্কার, যৌক্তিক ও সুসংগঠিতভাবে বক্তব্য তুলে ধরা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া complex sentence ব্যবহারের অনুশীলনও জরুরি। কোনো গ্রাফ বা চার্টের ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যা উল্লেখ না করে তথ্যের পরিবর্তন ও প্রবণতা ব্যাখ্যা করার অভ্যাস করতে বলেছেন তিনি।

🗣️ স্পিকিংয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলা জরুরি

স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে রাইসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো—ভয় না পেয়ে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলা।

অনেকেই ইংরেজি বুঝতে বা লিখতে পারলেও কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। এই সমস্যা কাটাতে বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা এবং নিজের চিন্তাভাবনা ইংরেজিতে প্রকাশ করার অভ্যাস করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অন্যদের ইংরেজি বলার ধরন, বাক্য গঠন ও উচ্চারণ মনোযোগ দিয়ে শোনাও কাজে দেয় বলে মনে করেন রাইসা।

আইইএলটিএস স্পিকিংয়ে মুখস্থ উত্তর নির্ভর না হয়ে স্বাভাবিকভাবে নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। কোথায় থাকেন, কী করতে ভালোবাসেন, কী ধরনের বই পড়েন বা কোন ধরনের কনটেন্ট দেখেন—এ ধরনের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।

রাইসার মতে, ভালোভাবে কথা বলার জন্য শুধু ইংরেজি জানা যথেষ্ট নয়। ভালো শ্রোতা হওয়া, বিভিন্ন বিষয়ে জানাশোনা রাখা এবং নিজের চিন্তাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার অভ্যাসও প্রয়োজন।

🌱 দীর্ঘদিনের অভ্যাসেই তৈরি হয় দক্ষতা

রাইসার অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা হলো, আইইএলটিএসে ভালো ফলের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভাষাচর্চা গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত ইংরেজি শোনা, পড়া, লেখা ও বলার অভ্যাস থাকলে পরীক্ষার প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে আসে। তাঁর মতে, ধারাবাহিক অনুশীলন, ছোট ছোট অভ্যাস এবং শেখার আগ্রহই ধীরে ধীরে বড় ফলাফল এনে দিতে পারে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।