![]()
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশা জাগালেও মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত দাঁড়াতেই পারল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশকে ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত।
১৯৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন দুই ভারতীয় ওপেনার। ইনিংসের শুরুতেই স্মৃতি মান্ধানা নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে টপকে নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হওয়ার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন। মাত্র ৮ রান করেই এই রেকর্ডের মালিক হন তিনি।
তবে ম্যাচের আসল আকর্ষণ ছিলেন শেফালি ভার্মা। বাংলাদেশি বোলারদের ওপর রীতিমতো তান্ডব চালিয়ে মাত্র ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। তার অপরাজিত ১০০ রানের উপর ভর করে ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত।
১৯৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। দলীয় দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। এরপর সোবহানা মোস্তারি, অধিনায়ক নিগার সুলতানা এবং স্বর্ণা আক্তার দ্রুত সাজঘরে ফিরলে মাত্র ৮ ওভারের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন দিলারা আক্তার। তিনি আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের নিচের সারির ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ভারতীয় পেসার নন্দিনী শর্মা একপর্যায়ে টানা দুই বলে নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন। যদিও সুলতানা খাতুনের সতর্কতায় হ্যাটট্রিকটি এড়ানো সম্ভব হয়।
শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে বল হাতে নন্দিনী শর্মা এবং দিপ্তি শর্মা ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্বর্ণপদকের লড়াই বা ফাইনালে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করল ভারত। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে সেমিফাইনালে হেরে সোনার লড়াই থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ।
