![]()
তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে কি বাড়ছে কোচদের ওপর চাপ?
স্পোর্টস ডেস্ক
ফুটবলে তিন সপ্তাহের বিরতি দীর্ঘ সময়। বিশেষ করে কোনো দলের ফলাফল খারাপ হলে এই সময়টিই কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতেই কয়েকজন কোচ চাকরি হারিয়েছেন। একই সময়ে কয়েকটি ক্লাবের ম্যানেজারও দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছেন।
এই তালিকায় আলোচনায় রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাইকেল ক্যারিক এবং ফুলহামের আলভারো আরবেলোয়া। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে রোববার ক্রেভেন কটেজে মুখোমুখি হওয়ার কথা দুই দলের।
ফুলহামের কোচ হিসেবে নতুন মৌসুমে শুরুটা কঠিন হয়েছে আরবেলোয়ার। প্রথম চার লিগ ম্যাচে জয় পায়নি দলটি এবং তিনটি ম্যাচে হেরেছে। অন্যদিকে ইউনাইটেডও চার লিগ ম্যাচ থেকে মাত্র একটি জয় পেয়েছে।
ইউনাইটেডের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে লিগ কাপ থেকে বিদায়ের পর। ব্রাইটনের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হারে তারা। এর আগে ম্যানচেস্টার সিটির কাছেও ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল ক্যারিকের দল।
তবে আন্তর্জাতিক বিরতির সময়েই কোচ পরিবর্তন করা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খুব সাধারণ ঘটনা নয়।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে কতবার কোচ বদলেছে?
গত এক দশকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির সময় প্রিমিয়ার লিগে মাত্র দুজন কোচের চাকরি গেছে। অক্টোবরের বিরতিতেও এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুবার।
তুলনামূলকভাবে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে কোচ পরিবর্তনের ঘটনা বেশি দেখা গেছে। গত ১০ বছরে ওই সময়ে ছয়জন ম্যানেজার দায়িত্ব হারিয়েছেন।
অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বিরতি নিজে থেকেই কোচ বরখাস্তের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে দীর্ঘ বিরতি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নতুন কোচ নিয়োগ এবং নতুন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কাজ শুরু করার জন্য বাড়তি সময় দিতে পারে।
টটেনহ্যামেও চাপ বাড়ছে
টটেনহ্যামের কোচ রবার্তো দে জারবির অবস্থাও আলোচনায় এসেছে। বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে দল সাজানোর পরও টটেনহ্যাম প্রিমিয়ার লিগের শুরুতে জয় পায়নি।
শনিবার অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর তাদের জয়হীন লিগ শুরু আরও দীর্ঘ হয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ডের গ্রীষ্মকালীন দলবদল ব্যয়ের পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় ক্লাবটির ওপর আলোচনাও বাড়ছে।
বার্নলি ও অন্যান্য ক্লাবেও উদ্বেগ
প্রিমিয়ার লিগের বাইরে বার্নলির কোচ নিকি হায়েনও চাপের মধ্যে রয়েছেন। আট ম্যাচ পরও জয় না পাওয়ায় দলটি পয়েন্ট তালিকার তলানিতে রয়েছে। ডার্বির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রবেশ করেছে বার্নলি।
ওয়াটফোর্ড ও ক্রিস্টাল প্যালেসের কোচদের নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে তিন সপ্তাহের বিরতি শেষ হওয়ার আগেই কয়েকটি ক্লাব তাদের কোচিং কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেটিই এখন নজরে থাকবে।
তবে সাবেক ইংলিশ কোচ টনি পুলিসের মতে, সেপ্টেম্বরের এই বিরতিকে এখনই কোচদের জন্য বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, মৌসুম যত এগোবে এবং ফলাফল খারাপ থাকবে, পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতিগুলোতে কোচ পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ ক্যারিকও নিজের চাকরি নিয়ে চলা জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং এমন ধারণাকে ‘ridiculous’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আন্তর্জাতিক বিরতির পর ইউনাইটেডের পরবর্তী বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হবে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচ। সেই সময় পর্যন্ত ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং সমর্থকদের নজর থাকবে দলের ফলাফল ও পারফরম্যান্সের দিকে।
