Touch Bangladesh
ঢাকামঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

১৯৮৭ সালের গোইয়ানিয়া তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা ও লাইডের ট্র্যাজেডি

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৩:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। ব্রাজিলের গোইয়ানিয়া শহরে ঘটে গিয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও করুণ তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা। অসচেতনতা, কৌতূহল এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক জাদুকরী নীল আলোর ফাঁদে পড়ে কীভাবে একটি আস্ত শহর ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, গোইয়ানিয়ার ‘সিজিয়াম-১৩৭’ (Cesium-137) ট্র্যাজেডি তার এক জীবন্ত ঐতিহাসিক দলিল।

গোইয়ানিয়া তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার মূল বিষয়াবলি

  • 📍 ঘটনাস্থল ও সময়: গোইয়ানিয়া, ব্রাজিল (সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭)।
  • ☢️ উৎস: পরিত্যক্ত ক্যানসার হাসপাতালের অরক্ষিত রেডিওথেরাপি মেশিনের সিজিয়াম-১৩৭ (Cesium-137)।
  • 👧 সর্বকনিষ্ঠ শিকার: ৬ বছরের অবোধ শিশু লাইডে ফেরেইরা (১ বিলিয়ন বেকেরেল তেজস্ক্রিয়তা পেটে প্রবেশ করে)।
  • ⚰️ সীসার ভারী কফিন: রেডিয়েশন ঠেকাতে ব্যবহৃত ৭০০ কেজি ওজনের লেড-লাইনড কফিন।
  • 🧹 ক্ষতির পরিমাণ: ৪ জনের মৃত্যু, ২৮ জন মারাত্মক দগ্ধ এবং ৩৫০০ ঘনমিটার তেজস্ক্রিয় বর্জ্য অপসারণ।

পরিত্যক্ত হাসপাতাল থেকে মায়াবী নীল আলোর ফাঁদ

ঘটনার সূচনা অত্যন্ত সাধারণভাবে। দুই ভাঙারি সংগ্রাহক একটি স্থানান্তরিত ক্যানসার হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে ঢুকে লোহালক্কড় খুঁজতে গিয়ে খুঁজে পান ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি রেডিওথেরাপি যন্ত্র। যন্ত্রটির ডেঞ্জার সিগন্যাল না বুজে তারা সেটিকে ভেঙে লোহা হিসেবে স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। যন্ত্রের ভেতরে ছিল সিজিয়াম ক্লোরাইডের গুঁড়ো। অন্ধকারে চমৎকার নীল আলো বিচ্ছুরণ করা এই পদার্থটিকে অলৌকিক কিছু ভেবে কৌতূহলী মানুষ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দেখাতে থাকেন। কেউ কেউ চালের দানার মতো টুকরো উপহার দেন, আবার কেউ হাতের ছোঁয়া দিয়ে শরীরেও মেখে নেন।

অদৃশ্য বিষের বিস্তার ও ৬ বছরের শিশু লাইডের ট্র্যাজেডি

তেজস্ক্রিয়তার কোনো গন্ধ বা বর্ণ না থাকায় মানুষ বুঝতেও পারেনি কীভাবে মারাত্মক বিষ ছড়াচ্ছিল। কিছুদিনের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও ত্বকের ক্ষতের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় জমতে থাকে। কিন্তু গোইয়ানিয়া দুর্ঘটনার সবচেয়ে বিষাদময় শিকার হয়ে ওঠে ৬ বছরের শিশু লাইডে ফেরেইরা (Leide das Neves Ferreira)। খেলার ছলে তার হাতে নীল গুঁড়ো লেগে যায় এবং সেই হাত দিয়েই স্যান্ডউইচ খাওয়ায় প্রায় ১ বিলিয়ন বেকেরেল তেজস্ক্রিয় কণা সরাসরি তার পেটে প্রবেশ করে। অভ্যন্তরীণ রেডিয়েশন মাত্র ৪ গ্রে-তে পৌঁছে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো করে দিলে ১৯৮৭ সালের ২৩ অক্টোবর সে মারা যায়।

৭০০ কেজি সীসার কফিন ও শহর দূষণমুক্তকরণ

মৃত্যুর পরও লাইডের শরীর থেকে উচ্চমাত্রায় রেডিয়েশন বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। মাটি ও পরিবেশকে সুরক্ষা দিতে কাঠের কফিনের ভেতরে-বাইরে সীসার (Lead) ভারী আস্তরণ দেওয়া হয়, ফলে মাত্র ২০ কেজি ওজনের এই শিশুর কফিনের মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৭০০ কেজি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) হিসাব মতে, এই দুর্ঘটনায় মোট ৪ জন মৃত্যুবরণ করেন এবং বিপুল পরিমাণ ঘরবাড়ি ভেঙে ও মাটির উপরিভাগ কেটে প্রায় ৩৫০০ ঘনমিটার তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি ও অপসারণ করতে হয়।

গোইয়ানিয়া দুর্ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও পরিসংখ্যানগত তথ্য

প্যারামিটার বিবরণ ও মাত্রা প্রভাব ও মন্তব্য
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ সিজিয়াম-১৩৭ (Cesium-137 / CsCl) নীল চেরেনকভ/রেডিওলুমিনেসেন্স আলো।
শিশু লাইডের অভ্যন্তরীণ রেডিয়েশন ১ বিলিয়ন বেকেরেল (১ GBq) / ৪ গ্রে (Gy) অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
কফিনের ধরন ও ওজন সীসা (Lead) দ্বারা আবৃত ভারী কফিন (৬০০-৭০০ কেজি) রেডিয়েশন বিচ্ছুরণ প্রতিরোধে।
পরিবেশগত বর্জ্য ৩৫০০ ঘনমিটার তেজস্ক্রিয় মাটির উপরিভাগ ও বর্জ্য ব্যাপক পরিবেশগত ক্লিনিং।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।