![]()
কসম শব্দটি আরবি। এর অর্থ শপথ। ইসলামে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শপথ করা জায়েজ হলেও কথায় কথায় বা অপ্রয়োজনে কসম করা মাকরুহ। পবিত্র কোরআনে অধিক শপথকারী ব্যক্তির অনুসরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।’—সুরা আল-কলম, আয়াত ১০।
কোনো বৈধ বিষয়ে শপথ করার পর তা ভঙ্গ করলে কাফফারা আদায় করতে হয়। কোরআনে এ বিষয়ে সুরা আল-মায়িদার ৮৯ নম্বর আয়াতে নির্দেশনা রয়েছে। শপথের কাফফারা হিসেবে প্রথমে ১০ জন মিসকিনকে পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে দুই বেলা খাবার খাওয়াতে হবে অথবা ১০ জন দরিদ্রকে পোশাক দিতে হবে। এ দুটির যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়া যায়।
তবে এসবের সামর্থ্য না থাকলে ধারাবাহিকভাবে তিন দিন রোজা রাখার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করা যায়।
ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, কোরআন শরিফের নামে শপথ করা শরিয়তসম্মত নয়; তবে এভাবে শপথ করলে তা সংঘটিত হয়ে যায়। এরপর শপথের বিষয়টি না মানলে কসম ভঙ্গ হবে এবং কাফফারা আদায় করতে হবে।
কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি
১০ জন মিসকিনের প্রত্যেককে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো অথবা তার মূল্য প্রদান করা যায়। তবে কাফফারার পুরো অর্থ একসঙ্গে একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে দিয়ে দিলে তা ১০ জনের কাফফারা হিসেবে গণ্য হবে না।
একজনকে অর্থ দিয়ে কাফফারা আদায় করতে চাইলে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিদিন একজনের অংশ হিসেবে দিতে হবে। একই দিনে একজনকে পুরো কাফফারার অর্থ দিয়ে দিলে সেটি এক দিনের কাফফারা হিসেবে গণ্য হবে। বাকি নয় দিনের অংশ পরবর্তী দিনগুলোতে দিতে হবে।
অন্যদিকে, ১০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে একই দিনে কাফফারা দেওয়া যায়। অর্থাৎ, ১০ জনকে একদিনে দিলে কাফফারা আদায় হবে; আর একজনকে দিলে ১০ দিনে তা সম্পন্ন করতে হবে।
তথ্যসূত্র: সুরা আল-মায়িদা, আয়াত ৮৯; সুরা আল-কলম, আয়াত ১০; দুররুল মুখতার ৩/৭২৫; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৬৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫৩।
