![]()
সকালের তাড়াহুড়োতে ফ্রিজ থেকে স্যান্ডউইচ বের করে খাওয়া কিংবা বিকেলের নাস্তায় সুপারশপ থেকে আনা প্যাকেটজাত খাবার মুখে তোলা—বর্তমান ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিনের সাধারণ ঘটনা। কিন্তু খাবারটি মুখে তোলার আগে মেয়াদের তারিখটি যাচাই করেছেন কি? সামান্য এই অসচেতনতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ বা পচে যাওয়া খাবারে অতি দ্রুত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জন্মায়। এসব উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) ও পেটের পীড়াসহ মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ও খাবার পচে যাওয়া কি এক?
সাধারণ ধারণায় এ দুটিকে একই মনে করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয়। ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ বা ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বলতে বোঝায় খাবারটি কতদিন পর্যন্ত তার সেরা গুণমান ও স্বাদ বজায় রাখবে। অন্যদিকে, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের সংক্রমণের ফলে যখন কোনো খাবার খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তাকে ‘পচে যাওয়া’ বলে।
খাবার নষ্ট বোঝার উপায়
সহজ কিছু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে খাবার খাওয়ার উপযুক্ত আছে কিনা তা শনাক্ত করা সম্ভব:
-
দুর্গন্ধ: খাবার থেকে অস্বাভাবিক, টক বা পচা গন্ধ এলে।
-
গঠন পরিবর্তন: খাবার অতিরিক্ত পিচ্ছিল, আঠালো, অস্বাভাবিক নরম বা শক্ত হয়ে গেলে।
-
রং পরিবর্তন: খাবারে ছাতা বা কালো দাগ পড়লে কিংবা স্বাভাবিক রং বদলে গেলে।
-
স্বাদ নষ্ট হওয়া: মুখে দেয়ার পর তেতো বা অপ্রত্যাশিত স্বাদ অনুভূত হলে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা মারাত্মক?
মেয়াদ পার হওয়া খাবার খেলে শরীরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:
১. খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং): সালমোনেলা কিংবা ই. কোলাই-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পেটে গেলে বমি, ডায়রিয়া, তীব্র জ্বর ও পানিশূন্যতা তৈরি হয়।
২. পাকস্থলীর জটিলতা: দৃশ্যমান পরিবর্তন না থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেলে বদহজম, পেট ফাঁপা ও তীব্র পেটে ব্যথা হতে পারে।
৩. গুরুতর শারীরিক সমস্যা: ভুল উপায়ে সংরক্ষিত টিনজাত খাবার থেকে ‘বটুলিজম’-এর মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। এছাড়া ফাঙ্গাসযুক্ত খাবার দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে।
৪. বিশেষ ঝুঁকি: শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মারাত্মক হতে পারে।
যা করবেন
স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা:
-
মোড়কের লেখা ভালো করে পড়ুন: কেনাকাটার সময় ‘Best Before’ (সেরা মানের সময়সীমা) এবং ‘Use By’ (ব্যবহারের শেষ সময়) লেখাটি মনোযোগ দিয়ে দেখে নিন।
-
সঠিক সংরক্ষণ: দ্রুত পচনশীল ও রান্না করা খাবার নিয়ম মেনে ফ্রিজে রাখুন। শুকনো খাবার সংরক্ষণে বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার করুন।
-
পরীক্ষা করে গ্রহণ: খাবার গ্রহণের আগে সামান্য সময় নিয়ে তার গন্ধ, রং ও সার্বিক অবস্থা যাচাই করুন।
-
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: রান্নার আগে ও খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা নিশ্চিত করুন।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সামান্য সচেতনতাই পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই খাবার কেনার সময় ও গ্রহণের আগে মেয়াদের তারিখটি নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।
