![]()
দেশে খেলাপি ঋণের যে পাহাড় জমেছে, তার প্রায় এক-চতুর্থাংশই আটকে রয়েছে সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত মাত্র ৬টি ব্যাংকে। যার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এই ভয়াবহ সংকট উত্তরণে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা তৈরি এবং ১২ থেকে ২৪ মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (FID)।
- 💰 মোট খেলাপি ঋণ: রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে একত্রে প্রায় ১,৪৮,০০০ কোটি টাকা।
- 🏛️ শীর্ষ খেলাপি ব্যাংক: এককভাবে জনতা ব্যাংকে সর্বোচ্চ ৭৫,৩৯৬ কোটি টাকা ও অগ্রণীতে ২৯,০২৯ কোটি টাকা।
- 📋 মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা: নগদ আদায় বাড়ানো, শীর্ষ ২০ খেলাপির তালিকা তৈরি ও ১২-২৪ মাসের রোডম্যাপ।
- 🗣️ বিশেষজ্ঞদের তাগিদ: রাজনৈতিক সদিচ্ছা (Political Commitment) ছাড়া আইনি জটিলতা এড়িয়ে নগদ আদায় করা অসম্ভব।
রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের বণ্টন
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছে জনতা ব্যাংক, যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫,৩৯৬ কোটি টাকা। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকে ২৯,০২৯ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকে ১৯,২৮১ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংকে ১৫,০৪৮ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকে ৮,১৩১ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (বিডিবিএল) প্রায় ৮৮৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও বিশেষ কর্মপরিকল্পনা
বিদ্যমান পরিস্থিতি উত্তরণে নগদ আদায় বাড়ানো, ঋণের গুণগত মান যাচাই, আমানত বৃদ্ধি ও মূলধন পরিস্থিতি সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব প্রতিটি ব্যাংককে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা তৈরি করে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন। যেসব ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে, শর্তসাপেক্ষে সরকার তাদের মূলধন সহায়তা দেবে; তবে ব্যাংকগুলোকে ঋণ আদায় বাড়িয়ে লাভজনক অবস্থায় ফেরার কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
‘রাজনৈতিক সদিচ্ছাই মূল বাধা’: ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী
ব্যাংক খাতের এই কোল্যাপসিং বা ধ্বস উত্তরণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী জানান, সরকারের পলিটিক্যাল কমিটমেন্টের বা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই এমনটা হচ্ছে। সরকারের যদি দৃঢ় অঙ্গীকার থাকে যে ব্যাংক খাত উদ্ধার করা হবে, তবে ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে এটি দূর করা সম্ভব।
নগদ আদায়ের জটিলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “নগদ আদায় করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। কিন্তু সিকিউরিটি বা জামানত বিক্রি করে টাকা আদায় করতে গেলে খেলাপিকৃত গ্রাহকেরা আদালত থেকে আইনি স্থগিতাদেশ (স্টেই অর্ডার) বা মামলা ঠুকে দেবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী লিগ্যাল প্রসেস শুরু হয়ে যাবে এবং ব্যাংক চাইলেও সেটিকে দ্রুত খেলাপি বলতে পারবে না।”
ব্যাংকভিত্তিক খেলাপি ঋণের পরিমাণের হিসাব
| ব্যাংকের নাম | খেলাপি ঋণের পরিমাণ (কোটি টাকায়) | পরিস্থিতির প্রভাব |
|---|---|---|
| জনতা ব্যাংক লিমিটেড | ৭৫,৩৯৬ কোটি টাকা | সর্বোচ্চ খেলাপি ও প্রভিশন ঘাটতি। |
| অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড | ২৯,০২৯ কোটি টাকা | নগদ আদায় জোরদারের নির্দেশ। |
| রূপালী ব্যাংক লিমিটেড | ১৯,২৮১ কোটি টাকা | মূলধন ঘাটতি পূরণের চ্যালেঞ্জ। |
| সোনালী ব্যাংক লিমিটেড | ১৫,০৪৮ কোটি টাকা | শীর্ষ ২০ খেলাপির বিশেষ তালিকা। |
| বেসিক ব্যাংক লিমিটেড | ৮,১৩১ কোটি টাকা | উচ্চ খেলাপি হার সমন্বয় আবশ্যক। |
| বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (BDBL) | ৮৮৯ কোটি টাকা | গুণগত ঋণ বিতরণে তাগিদ। |
