![]()
পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারে সহযোগিতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।
- ✍️ স্বাক্ষরকারী: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ।
- 📜 ঐতিহাসিক ভিত্তি: ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া পরমাণু সহযোগিতার ধারাবাহিকতা।
- ✈️ বাণিজ্য ও কূটনৈতিক অগ্রগতি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক এবং বোয়িং বিমান সংক্রান্ত বড় বাণিজ্য চুক্তি সই।
- ⚛️ রূপপুর হালনাগাদ: আকাশপথের ছাড়পত্র জটিলতায় রাশিয়ার রসাটম থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছাতে সাময়িক বিলম্ব।
নিউইয়র্কে সমঝোতা স্মারক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিএনপি মিডিয়া সেলের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, নতুন সমঝোতা স্মারকটি তারই ধারাবাহিকতা বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তা ও বোয়িং চুক্তি
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন মাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সফল বৈঠক করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্প তাঁর নিজ সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা প্রকাশ করেছেন।
আকাশপথের জটিলতায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম চালানে বিলম্ব
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার খবরের মধ্যেই রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছানো নিয়ে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রসাটম থেকে কার্গো বিমানে করে চালানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করলেও নির্দিষ্ট রুটের আকাশপথের সামরিক/আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র না পাওয়ায় রসাটমের ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়। পরবর্তী সময়সূচি দ্রুত পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম ২০২৩ সালের অক্টোবরে সফলভাবে দেশে পৌঁছেছিল।
পরমাণু ও জ্বালানি খাতের সমসাময়িক উন্নয়ন চিত্র
| বিষয় / উদ্যোগ | অংশীদার দেশ / সংস্থা | মূল গুরুত্ব ও বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| বেসামরিক পরমাণু সমঝোতা (MoU) | যুক্তরাষ্ট্র (US) | ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সই; কারিগরি ও গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধিতে সহায়াত। |
| রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প (২,৪০০ মেগাওয়াট) | রাশিয়া (Rosatom) | ২য় ইউনিটের ইউরেনিয়াম ফ্লাইট আকাশপথ ছাড়পত্রের অপেক্ষায় বিলম্বিত। |
| বোয়িং এভিয়েশন বাণিজ্য চুক্তি | যুক্তরাষ্ট্র (Boeing Corp.) | বাণিজ্যিক বিমান ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি; প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা। |
