![]()
সাসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ট্রল ও মন্তব্যের শিকার হন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী। তবে এসব নিয়ে খুব একটা বিচলিত নন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, জীবনে এমন কোনো কাজ তিনি করেননি যা নিয়ে তাঁকে ট্রল করা যায়; বরং তাঁর প্রতিবাদী ও সরাসরি কথা বলার স্বভাবকেই কিছু অসাধু লোক নিজেদের মতো ট্রলের বিষয় বানিয়ে ফেলে।
- ⌚ ঘড়ির দাম: অনেকে ২৯ লাখ টাকার ঘড়ির বাহাদুরি দেখালেও তিনি পরেন মাত্র ১১০০ টাকার ঘড়ি।
- 🚗 জীবনযাপন: নিজের মার্সিডিজ গাড়ি থাকলেও সামর্থ্য বা সম্পদ নিয়ে কখনো অহংকার বা ‘ফুটানি’ করেন না।
- 🗣️ স্বভাব ও চরিত্র: সোজা ও প্রতিবাদী কথা বলার কারণে যাদের ‘আঁতে ঘা’ লাগে, তারাই ট্রল ছড়ায়।
- 📱 সোশ্যাল মিডিয়া: সত্যি কোনো অপরাধমূলক কাজ করেননি তাই পোস্ট মুছে ফেলারও প্রয়োজন পড়ে না।
‘আমাকে নিয়ে ট্রল হওয়ার মতো কোনো কাজ আমি করিনি’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রল প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, “আসলে আমাকে নিয়ে ট্রল হওয়ার মতো কোনো কাজ আমি আমার জীবনেও করিনি। হয়তোবা আমার কর্মকাণ্ডকে ট্রলের মতো করে ওরা নিজেরাই তৈরি করে ফেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতগুলো ফালতু লোক আছে, যাদের অনেকে বট বাহিনীও বলে—যারা ট্রলের মতো করে।”
নিজের স্বভাবের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আমার একটাই জিনিস হচ্ছে, আমি একটু প্রতিবাদী। আমি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করি। এই সরাসরি কথা বলাটা অনেকের ভালো লাগে না। যাদের আঁতে ঘা লাগে, তারা এসব ছড়ায়। এসবে তাই পাত্তা দিই না।”
২৯ লাখ টাকার চর্চা বনাম ১১০০ টাকার ঘড়ি ও মার্সিডিজ
কথা প্রসঙ্গে নিজের ব্যবহৃত একটি ঘড়ির উদাহরণ টেনে ওমর সানী বলেন, “অনেকেই বাংলাদেশে বলছে, ‘ভাই, আমার ঘড়িটা দেখছেন? এই ঘড়িটা কিন্তু প্রায় ২৯ লাখ টাকার।’ আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনটা দেখেছি। আমার হাতেও একটা ঘড়ি আছে। হয়তো আমি ওমর সানীকে এই ঘড়ি পরতে দেখে অনেকের কাছে খুব দামি মনে হচ্ছে। আসলে এটার দাম অত না, এটা মাত্র ১১০০ টাকা।”
নিজের সম্পদ নিয়ে অহংকার না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি এটা প্রাউডলি বলতে পারি, কোনো দিন কোনো কিছুতে আলগা বাহাদুরি করিনি। আমার মার্সিডিজ থাকার পরও আমি ফুটানি করি না। এটা নিয়ে বড় করে কথা বলার কিছু নেই।”
‘যাঁরা শিল্পী নন, তাঁরাই বেশি কথা বলেন’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট করা ও পরবর্তীতে তা ডিলিট করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চিত্রনায়ক সানী জানান, তিনি কখনো কাউকে ছোট করে পোস্ট করেন না, তাই ডিলিট করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় শিল্পীদের উপস্থিতি ও মন্তব্য নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যাঁরা সত্যি কারের শিল্পী, তাঁরা কম কথা বলেন। আর যাঁরা কোনো শিল্পীই নন, ওরাই বেশি কথা বলেন।”
ওমর সানীর সাক্ষাৎকার: উল্লেখযোগ্য বিষয় ও দৃষ্টিভঙ্গি
| বিষয় | ওমর সানীর মন্তব্য | ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি |
|---|---|---|
| ট্রল ও সাইবার আক্রমণ | “ফালতু লোক বা বট বাহিনী এসব ট্রল তৈরি করে।” | ট্রলকে সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন মনে করেন। |
| ঘড়ি ও দামি জীবনযাপন | “আমার হাতের ঘড়িটি মাত্র ১১০০ টাকার।” | আলগা বাহাদুরি ও ফুটানিতে বিশ্বাসী নন। |
| ব্যক্তিগত গাড়ি (মার্সিডিজ) | “মার্সিডিজ থাকার পরও ফুটানি করি না।” | সম্পদ নিয়ে অহংকার না করা। |
| সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য | “যাঁরা প্রকৃত শিল্পী, তাঁরা কম কথা বলেন।” | কাউকে ছোট না করে সরাসরি কথা বলা। |
