![]()
বিগত সরকারের আমলে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ চার বছর গাফিলতি ও চরম বিলম্বের কারণে দেশে প্রায় এক হাজার শিশুর অকালমৃত্যু ঘটেছে এবং বহু মায়ের বুক খালি হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর কড়াইল টিএনটি খেলার মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় ধাপে হামের টিকা ‘ক্যাচআপ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
- 🦠 সংক্রমণ ও ক্ষতি: ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন হাম আক্রান্ত রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
- ⏳ সংকটের কারণ: ২০২০ সালের পর খোলা টেন্ডার প্রক্রিয়ার অজুহাতে চার বছর টিকাদান ব্যাহত করা হয়।
- 💉 নতুন লক্ষ্যমাত্রা: ৩৪ লাখ শিশুকে (১০ লাখ নবজাতক ও ২৪ লাখ বাদ পড়া শিশু) লক্ষ্য করে নতুন ক্যাচআপ ড্রাইভ শুরু।
- 🌙 বিশেষ সুবিধা: কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে ছুটির দিন ও সন্ধ্যার পরও টিকা দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা।
টেন্ডার জটিলতা ও বিগত সরকারের গাফিলতি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলায় প্রতি চার বছর পর পর মহামারিবিরোধী গণ-টিকাদান চালু রাখা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম কার্যত থমকে ছিল। ইউনিসেফের সরাসরি ডেলিগেটেড ওয়েতে টিকা কেনার আন্তর্জাতিক পরামর্শ উপেক্ষা করে আগের সরকার উন্মুক্ত দরপত্রের (ওপেন টেন্ডার) প্রক্রিয়ায় যেতে চেয়ে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করে। এর খেসারত হিসেবে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশাল ঘাটতি সামলাতে হয়েছে।
৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে জোরদার ‘ক্যাচআপ’ ড্রাইভ
দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথমে ১৮টি জেলায় এবং পরবর্তীতে ঢাকা ও বড় সিটি করপোরেশনগুলোতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকাদান করা হয়। তবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণকারী শিশুর সঙ্গে হামের টিকার ব্যবধান লক্ষ্য করে আরও প্রায় ১৪ লাখ বাদ পড়া শিশুকে ঈদুল আজহার আগে টিকা দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ইউনিসেফ ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করায় দেশের ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে নতুন এই ক্যাচআপ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু রয়েছে। সারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ক্যাম্পিংয়ের পাশাপাশি সন্ধ্যা ও ছুটির দিনেও টিকা দেওয়ার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অপুষ্টি, নিউমোনিয়া ও ১৫০ টাকার উদ্ভাবনী ‘সিপ্যাপ’
হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অপুষ্টি এবং নিউমোনিয়ার জটিলতাকে চিহ্নিত করেছেন চিকিৎসকরা। শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে। এই সংকট মোকাবিলায় আইসিডিডিআর,বি-র চিকিৎসক ড. চিশতির উদ্ভাবিত মাত্র ১৫০ টাকা খরচের বোতলভিত্তিক ‘সিপ্যাপ’ (CPAP) প্রযুক্তি ব্যবহার করে শ্বাসকষ্টে ভোগা বহু আশঙ্কাজনক শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনা
| সূচক / বিষয় | সংখ্যা / পরিমাণ | বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব |
|---|---|---|
| বর্তমান ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা | ৩৪ লাখ শিশু (৬-৫৯ মাস) | ১০ লাখ নবজাতক + ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু। |
| প্রথম ও অতিরিক্ত ধাপে টিকাদান | ১ কোটি ৯৯ লাখ শিশু | ১.৮৫ কোটি মূল + ১৪ লাখ বিশেষ অনুসন্ধান করে টিকা দান। |
| ইউনিসেফ থেকে সদ্য প্রাপ্ত টিকা | ৪০ লাখ ডোজ | ১০ দিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে প্রাপ্ত। |
| মোট সংরক্ষিত / প্রস্তুত টিকা | ৪৩ লাখের বেশি ডোজ | ১০ লাখ ডোজ ভবিষ্যৎ ‘মপআপ’ ড্রাইভের জন্য সংরক্ষিত। |
