![]()
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলায় আদালত প্রাঙ্গণে আপস-মীমাংসা সম্পন্ন হয়েছে। এমপি নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে কোনো আপত্তি নেই বলে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
- 📄 আদালতে হলফনামা: ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে বাদী উপস্থিত হয়ে জামিনে অনাপত্তির হলফনামা পেশ করেন।
- 🤝 আপসের শর্তে জামিন আবেদন: আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, বাদী ও আসামিপক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছেন; আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
- 🏢 ন্যাম ভবনে মরদেহ উদ্ধার: গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে সিআইডি ও পুলিশ।
- ⚖️ আসামিদের অবস্থান: গ্রেপ্তারের পর থেকেই এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
আদালতে জবানবন্দি ও হলফনামা জমা
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে সশরীরে হাজির হন মামলার বাদী ও নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তিনি আসামিদের পক্ষে আপস অনাপত্তিপত্র সম্বলিত হলফনামা পেশ করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জানান, আপসের বিষয়ে বাদী এবং আসামিপক্ষ একমত হয়েছেন। শুনানিতে বাদী সশরীরে উপস্থিত থেকে দুই আসামির জামিনে কোনো আপত্তি নেই বলে আদালতকে অবহিত করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী কার্যালয়ে জানান, “আসামিরা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। আপসের শর্তে তাঁদের জামিন প্রার্থনা করা হয়েছে, আদালত শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখেছেন।”
ঘটনার পটভূমি ও ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর সরকারি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে এমপি জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই সময় ঘরটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
পরবর্তীতে সিআইডির ক্রাইম সিন টিমের সহায়তায় দরজা ভেঙে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কিছু চিরকুটও আলামত হিসেবে জব্দ করে। ঘটনার পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় এমপি নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই রাতেই এমপি নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার সামগ্রিক আইনি চিত্র
| বিষয়/তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| মামলার এজাহারভুক্ত আসামি | ১. জি এম নজরুল ইসলাম (এমপি), ২. মাকছুদা ইসলাম (প্রথম স্ত্রী), ৩. ওবায়দুর রহমান (মাম)। |
| ঘটনার স্থান ও থানা | ন্যাম ভবন ফ্ল্যাট ২০৩, শেরেবাংলা নগর থানা, ঢাকা। |
| আদালত ও বিচারক | ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত। |
| সর্বশেষ আপডেট | বাদীর আপসনামা পেশ ও আসামিদের জামিনে অনাপত্তি জ্ঞাপন; আদেশের অপেক্ষা। |
