![]()
সমাজ
দুর্গাপূজা ও নির্বাচনের আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল হিন্দু মহাজোট
দুর্গাপূজা ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি অভিযোগ করে, দেশের বিভিন্ন অংশে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে হুমকির ঘটনা ঘটেছে।
সংগঠনটির দাবি, ক্রমবর্ধমান অনিরাপত্তার বোধের কারণে কিছু হিন্দু দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন। তারা আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্প্রদায়ের সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
“মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এ বছরের দুর্গাপূজার আগে কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। দায়ীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে বিচারের আওতায় আনতে হবে।” — পলাশ কান্তি দে, নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র
লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান সংগঠনটির নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো — বিশেষত ধর্মীয় উৎসবের আগে-পরে এবং নির্বাচনের সময় — হামলার মুখে পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এ বছরের দুর্গাপূজার আগে কয়েকটি জেলায় মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে পলাশ বলেন, অপরাধীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা উচিত।
মৃত্যুর ঘটনা ও পরিসংখ্যান
দীপু দাসের পুড়ে মৃত্যু এবং ময়মনসিংহে নিরঞ্জন চন্দ্র সুত্রধরের মৃতদেহ ড্রাম থেকে উদ্ধারের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গত নয় মাসে সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪৬ জন নিহত হয়েছেন বা মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন।
তিনি এসব মৃত্যুর পরিস্থিতি — আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা — নির্ধারণে নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
চার দফা দাবি
সংগঠনটি চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে — সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং দুর্গাপূজার সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল প্রতিষ্ঠা।
বিধানসভার আদেশে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনটি আগামী বছর থেকে অষ্টমী, নবমী ও দশমীকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি জানায়।
তারা যুক্তি দেয়, নির্বাহী আদেশে দেওয়া ছুটি ভবিষ্যতের কোনো সরকার প্রত্যাহার করতে পারে।
সংগঠনটি আরও দাবি করে, সরকারি খরচে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজা মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং উৎসবের ১০ দিন আগে থেকে মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।
⚠️ N:B / দৃষ্টি আকর্ষণ
এই সংবাদটি বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে জনস্বার্থে ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে। এখানে উল্লেখিত অভিযোগ, পরিসংখ্যান, দাবি ও বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিজস্ব — যা নিরপেক্ষভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। এখানে উপস্থাপিত তথ্য, মন্তব্য বা দাবির জন্য TouchBangladesh কোনোভাবেই দায়ী নয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। পাঠকদের অনুরোধ — পূর্ণাঙ্গ ও যাচাইকৃত তথ্যের জন্য মূল সূত্র অনুসরণ করুন এবং কোনো ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য বা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন। কোনো আইনি অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে তা সরাসরি মূল সূত্রের কাছে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।
