![]()
হাঁটাচলা করলেই শরীরে তৈরি হবে বিদ্যুৎ! চমকপ্রদ প্রযুক্তি আবিষ্কার আইআইটি মাদ্রাজের
বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কারে এবার মানুষের শরীরই হয়ে উঠতে পারে বিদ্যুতের উৎস! ভাবুন তো, আপনি সাধারণ হাঁটাচলা করছেন, হাত নাড়াচ্ছেন বা আঙুল ভাঁজ করছেন—আর তা থেকেই তৈরি হচ্ছে বৈদ্যুতিক শক্তি! এমনই এক চমকপ্রদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন আইআইটি মাদ্রাজ (IIT Madras)-এর গবেষকেরা। তাঁদের তৈরি এই বিশেষ প্রযুক্তির নাম ‘ট্রাইবোইলেকট্রিক ন্যানোজেনারেটর’ (TENG), যা মানুষের দৈনন্দিন শারীরিক নড়াচড়াকে অনায়াসেই বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম।
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ তৈরির জন্য আলাদা করে কোনও ব্যাটারির প্রয়োজন হবে না। দুটি ভিন্ন পদার্থের ঘর্ষণের ফলে বারবার সংস্পর্শে আসা এবং আলাদা হওয়ার মাধ্যমে যে বৈদ্যুতিক আধানের পার্থক্য তৈরি হয়, তা থেকেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে।
এই বিশেষ যন্ত্রটি তৈরি করতে গবেষকেরা PVDF নামক একটি নমনীয় পদার্থের সঙ্গে অতি সূক্ষ্ম রুপোর তার বা ‘সিলভার ন্যানোওয়্যার’ ব্যবহার করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৭ শতাংশ রুপোর ন্যানোতার ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এই সংমিশ্রণটি PVDF-কে আরও কার্যকর বিটা পর্যায়ে নিয়ে যায় এবং ক্ষুদ্র আধান ধরে রাখতে সাহায্য করে। যন্ত্রটি সফলভাবে প্রায় ২৭০ ভোল্ট পর্যন্ত বৈদ্যুতিক বিভব (Voltage) তৈরি করতে পেরেছে।
ভবিষ্যতে এর ব্যবহার ও সম্ভাবনা
এই প্রযুক্তিতে উৎপন্ন বিদ্যুৎপ্রবাহ (Current) তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি দিয়ে বড় কোনও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো সম্ভব নয়। তবে এর আসল সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে পরিধানযোগ্য (Wearable) ক্ষুদ্র সেন্সর এবং কম শক্তির ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ক্ষেত্রে।
গবেষকেরা মানুষের কবজি, কনুই, হাঁটু, গোড়ালি এবং আঙুলের মতো বিভিন্ন অংশের নড়াচড়া দিয়ে যন্ত্রটি পরীক্ষা করেছেন। অর্থাৎ, আগামী দিনে পরিধানযোগ্য সেন্সর বা হেলথ ট্র্যাকারগুলো মানুষের শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া থেকেই নিজেদের প্রয়োজনীয় শক্তির কিছুটা সংগ্রহ করে নিতে পারবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডিভাইসে ব্যাটারির ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানী মহল।
