![]()
জার্মানির অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ইতিহাসে এক অভাবনীয় ধস নেমে এসেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস’ (বিএনডি)-র সাবেক প্রধান আগস্ট হ্যানিংকে বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, গোপন নথি চুরি ও নিষিদ্ধ গুপ্তচরবৃত্তির গুরুতর অভিযোগে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জার্মানির ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার পর থেকে আগস্ট হ্যানিং প্রাইভেট কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।
- 🕵️♂️ সাবেক প্রধান গ্রেফতার: বিএনডির সাবেক প্রধান আগস্ট হ্যানিং ও তাঁর সহযোগী মানফ্রেড ডি আটক।
- 📄 ২,০০০ অতি গোপন নথি পাচার: ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে অর্থের বিনিময়ে গোপন ফাইল হস্তান্তর।
- 🌐 বিদেশি সংস্থায় বিশ্লেষণ প্রদান: চুরি করা গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে বিদেশি সংস্থার জন্য রিপোর্ট তৈরির অভিযোগ।
- 🔍 অন্য এক তদন্তে ফাস: কোটিপতি ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা ব্লকের পারিবারিক শিশু অপহরণ মামলায় উদ্ধার ডেটা ড্রাইভে মেলেন এই তথ্য।
বিএনডি থেকে ২ হাজার গোপন নথি পাচার ও মানফ্রেড ডি-র ভূমিকা
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট হ্যানিংয়ের পাশাপাশি বিএনডির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা মানফ্রেড ডি-কেও বাভারিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানফ্রেড ডি পূর্বে হ্যানিংয়ের ব্যুরো প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিএনডির একাধিক পরবর্তী প্রধানদের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সুযোগে তিনি সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত প্রায় ২,০০০টি অতি সংবেদনশীল ও শ্রেণীবদ্ধ নথি অর্থের বিনিময়ে হ্যানিংয়ের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ এনেছেন প্রসিকিউটররা।
বিদেশি সংস্থার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা
জার্মান প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে, আগস্ট হ্যানিং বিএনডির গোপনীয় তথ্য ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার জন্য বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রস্তুত করেছিলেন। এছাড়া অন্য আরেকটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং মানফ্রেড ডি-র সরবরাহ করা উপাত্তের ভিত্তিতে তাঁদের কাছে জার্মানির রাজনৈতিক ও সামরিক তথ্য পাচার করেছিলেন। তবে এই অপতৎপরতায় কোন কোন বিদেশি রাষ্ট্র জড়িত রয়েছে, তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি।
শিশু অপহরণ মামলার তদন্তে উন্মোচিত গুপ্তচরবৃত্তির ফাঁদ
জার্মান সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিখ্যাত স্টেকহাউস চেইন ‘ব্লক হাউস’-এর মালকিন ক্রিস্টিনা ব্লকের পারিবারিক শিশু অপহরণ সংক্রান্ত পৃথক এক মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হ্যানিংয়ের এই গোপন নথির হদিস পায় পুলিশ। নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ করার সময় হ্যানিংয়ের একটি ইলেকট্রনিক সঞ্চয়কেন্দ্রে (ডিজিটাল স্টোরেজ ডিভাইস) বিএনডির সম্প্রতি সংগৃহীত বেশ কিছু অত্যন্ত গোপন ফাইল খুঁজে পান তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও বিএনডির এক শীর্ষ কর্মকর্তা কারস্টেন এল-এর বিরুদ্ধে রাশিয়ার কাছে ইউক্রেন যুদ্ধের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের বিচার শুরু হয়েছিল।
জার্মান গোয়েন্দা কেলেঙ্কারির চিত্রপট একনজরে
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| আটক ব্যক্তিগণ | আগস্ট হ্যানিং (সাবেক বিএনডি প্রধান) ও মানফ্রেড ডি (সাবেক চিফ অব স্টাফ) |
| গ্রেপ্তারের স্থান ও সময় | নোর্ডভালডে (মুন্সটার) ও বাভারিয়া, জার্মানি | মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ |
| প্রধান অভিযোগাবলী | রাষ্ট্রদ্রোহিতা, সরকারি গোপন তথ্য চুরি ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থায় তথ্য পাচার |
| পাচারকৃত নথি ও মাধ্যম | ২০১০-২০২৬ এর মধ্যে প্রায় ২,০০০ গোপন নথি (ডিজিটাল ড্রাইভে সংরক্ষিত) |
