![]()
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ: শুরু হলো আধুনিক ‘পেপারলেস’ পরীক্ষা ব্যবস্থা
প্রচলিত খাতা-কলমের নির্ভরতা কাটিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থার যুগে প্রবেশ করল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কাগজবিহীন, স্বচ্ছ এবং দ্রুততম এই পরীক্ষা পদ্ধতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আধুনিক এই পরীক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা
এই পুরো প্রযুক্তিগত উদ্যোগটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ড. মো. হাসনাত কবীর। তাঁর মতে, সনাতন পদ্ধতির বদলে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া হলে তা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে। এই আধুনিক সিস্টেমের মূল আকর্ষণগুলো হলো:
সম্পূর্ণ কাগজবিহীন পরীক্ষা: খাতা বা কাগজের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনা।
তাত্ক্ষণিক ফলাফল: পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে ফলাফল প্রদর্শনের সুবিধা।
নির্ভুল ও দ্রুত মূল্যায়ন: অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ।
ড. কবীর জানান, প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিই (ICE) বিভাগে এই পেপারলেস পদ্ধতির সফল প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এর সফলতা ও কার্যকারিতা যাচাই করে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগেও এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় যদি এই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে চায়, তবে সিস্টেমের নির্মাতাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভোগান্তি লাঘব
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রমকে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনছে।
উপাচার্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পেপারলেস এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আবশ্যিকভাবে কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে। অর্থাৎ, শুধু পরীক্ষাই নয়, এর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞানেও শিক্ষার্থীরা পারদর্শী হয়ে উঠবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর শিক্ষা।
আগামী দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এই ডিজিটাল পরীক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের জন্য পুরোদমে কাজ চলছে।
