![]()
আফ্রিকার জিম্বাবুয়েতে প্রায় ২১০ মিলিয়ন (২১ কোটি) বছরের পুরোনো একটি নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে। ‘মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস’ (Musango matusadonaensis) নামের এই ডাইনোসরের আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সামনে প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক সম্পূর্ণ অজানা বাস্তুতন্ত্রের দরজা খুলে দিয়েছে। আগে ধারণা করা হতো জিম্বাবুয়ের ডাইনোসরগুলো পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার ডাইনোসরদেরই সমগোত্রীয়। কিন্তু এই নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করেছে যে, প্রাচীন জলবায়ুগত পার্থক্যের কারণে দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকায় ডাইনোসরদের সম্পূর্ণ আলাদা এবং অনন্য প্রজাতির বিকাশ ঘটেছিল।
- 🦖 নতুন প্রজাতি: আবিষ্কৃত নতুন ডাইনোসরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস’।
- 📍 আবিষ্কারের স্থান: জিম্বাবুয়ের মুসাঙ্গো দ্বীপের কাছে নিয়ামাসাঙ্গো নদীর তীরে এর আংশিক কঙ্কাল পাওয়া গেছে।
- 📏 দৈহিক বৈশিষ্ট্য: এটি দুই পায়ে হাঁটত; লম্বায় ছিল প্রায় ৪.৫ মিটার এবং ওজন ছিল ২২০ কেজি।
- 🌍 তাৎপর্য: এই ডাইনোসর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রজাতিগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা প্রাগৈতিহাসিক জলবায়ুর বৈচিত্র্য প্রমাণ করে।
‘মুসাঙ্গো’র বৈশিষ্ট্য ও আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট
নতুন আবিষ্কৃত মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস হলো ‘সরোপোডোমর্ফ’ (sauropodomorph) উপগোষ্ঠীর একটি ডাইনোসর। এই উপগোষ্ঠী থেকেই পরবর্তীতে চার পেয়ে ও লম্বা গলার বিশালদেহী ডাইনোসরদের (যেমন- ডিপ্লোডোকাস) উদ্ভব হয়েছিল। হাড়ের বৃদ্ধি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, মৃত্যুর সময় এটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ঠিক আগের ধাপে (subadult) ছিল। দুঃখজনকভাবে এর মাথার খুলি সংরক্ষিত না থাকায় এর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এই গোত্রের ডাইনোসররা মূলত নিরামিষাশী হতো। স্থানীয় সাফারি ক্যাম্প ম্যানেজার স্টিভ এডওয়ার্ডসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোহানেসবার্গের উইটস ইউনিভার্সিটির জোনাহ চোইনিরের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিজ্ঞানীদের একটি দল এই জীবাশ্মটি উদ্ধার করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তুতন্ত্র
ভৌগোলিক নৈকট্য ও সমসাময়িক হওয়ার কারণে বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন জিম্বাবুয়ের এই জীবাশ্মগুলো দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া ডাইনোসর প্রজাতির মতোই হবে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে দেখা যায়, মুসাঙ্গো এবং সম্প্রতি আবিষ্কৃত আরেকটি ডাইনোসর ‘মুসানকোয়া’ (Musankwa) জিম্বাবুয়ের জন্য একেবারেই অনন্য। এর পাশাপাশি সেখানে লাংফিশ এবং ফাইটোজর নামের জলজ সরীসৃপের সন্ধানও মিলেছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার জীবাশ্মক্ষেত্রগুলোতে বিরল বা অনুপস্থিত। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সে যুগে জিম্বাবুয়ে বিষুবরেখার কাছাকাছি থাকায় জলবায়ুগত পার্থক্যের কারণেই এমন ভিন্ন প্রজাতির বিকাশ ঘটেছিল।
প্রাগৈতিহাসিক পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ গবেষণা
ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ ও উদ্ভিদের জীবাশ্ম থেকে জানা যায়, প্রায় ২১০ মিলিয়ন বছর আগে (লেট ট্রায়াসিক যুগ) জিম্বাবুয়ের লেক কারিবা অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল বেশ শুষ্ক। সেখানে বিশাল আকৃতির কনিফার বা সরলবর্গীয় গাছ ছিল এবং চিরস্থায়ী জলাশয়গুলোর চারপাশে সবুজের সমারোহ ছিল। এই অনন্য আবিষ্কারের ফলে ডাইনোসর বিবর্তনের প্রাথমিক পর্যায় সম্পর্কে জানতে জিম্বাবুয়ে এখন প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই ভিন্নতার সঠিক কারণ ও অন্যান্য অজানা প্রজাতির সন্ধানে বিজ্ঞানীরা পুনরায় কারিবা অঞ্চলে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
এক নজরে নতুন ডাইনোসর আবিষ্কারের তথ্যচিত্র
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রজাতির নাম | মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস (Musango matusadonaensis) |
| ডাইনোসরের ধরন | সরোপোডোমর্ফ (দুই পায়ে হাঁটা আদিম প্রজাতি) |
| বয়স | আনুমানিক ২১০ মিলিয়ন (২১ কোটি) বছর |
| দৈহিক পরিমাপ | দৈর্ঘ্য: ৪.৫ মিটার | ওজন: ২২০ কেজি |
| আবিষ্কারের স্থান | লেক কারিবা, জিম্বাবুয়ে (মাতুসাডোনা ন্যাশনাল পার্ক) |
| গবেষক দল | যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক দল |
