![]()
নিয়োগের দীর্ঘ ২১ দিন পর তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের পরপরই চট্টগ্রাম প্রকৌশل ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে চুয়েটে তীব্র প্রশাসনিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
- 🔒 कार्यालয়ে প্রবেশ ও অবরুদ্ধ: নিয়োগের ২১ দিন পর তালা ভেঙে অফিসে ঢোকার পর নতুন ভিসি ড. শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ।
- ⚡ সংযোগ বিচ্ছিন্ন: প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
- 👥 মূল দাবি: সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের অপসারণ বাতিল ও তাঁকে পুনর্বহালের দাবি।
- 🛑 সর্বাত্মক কর্মবিরতি: শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে সেশনজটের তীব্র আশঙ্কা।
তালা ভেঙে প্রবেশ ঘিরে উত্তাল প্রশাসনিক ভবন
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এর ফলে গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলছিল। সোমবার সকালে ভিসি মহোদয় নিজেই তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা দ্রুত প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে জড়ো হন এবং ফটকে নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তাঁরা “তালা তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে” স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো চত্বর।
বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও আন্দোলনের তীব্রতা
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কেবল প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না; ভবনের ভেতরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অচল করতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, যতক্ষণ পর্যন্ত সাবেক ভিসিকে পুনর্বহালের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসবে, ততক্ষণ নতুন উপাচার্যকে তারা কার্যালয় করতে দেবেন না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন পরবর্তীতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে তাঁরাও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ: চুয়েটে ভয়াবহ সেশনজটের আশঙ্কা
প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টানা কর্মবিরতির কারণে চুয়েটের সকল বিভাগের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষাসমূহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম অচল থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মারাত্মক শিক্ষাবর্ষের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক এই সংকটের সমাধান না হলে প্রকৌশল এই উচ্চশিক্ষালয়ে দীর্ঘস্থায়ী সেশনজট তৈরি হবে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
চুয়েট উপাচার্য অবরুদ্ধকরণ ও আন্দোলন একনজরে
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| বিশ্ববিদ্যালয় | চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) |
| নতুন উপাচার্য | ড. শেখ শরীফুল আলম (নিয়োগ: ২১ সেপ্টেম্বর) |
| ঘটনার দিন ও প্রেক্ষাপট | সোমবার (১২ অক্টোবর) তালা ভেঙে প্রবেশের পর ভিসি অবরুদ্ধ ও বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন |
| শিক্ষার্থীদের মূল দাবি | সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ প্রত্যাহার ও পুনর্বহাল |
