Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

মানবদেহের বিস্ময়কর ‘হাঁটুরে প্রোটিন

প্রতিবেদক
Louis Daru
অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | জীববিজ্ঞান

মানবদেহের প্রতিটি কোষ যেন একেকটি ব্যস্ত শহর। আর এই শহরের ভেতরে অবিরাম কাজ করে চলা এক অবিশ্বাস্য ডেলিভারি ম্যানের নাম হলো ‘কাইনেসিন’ (Kinesin)। এটি এক বিশেষ ধরনের মোটর প্রোটিন, যাকে বিজ্ঞানীরা আক্ষরিক অর্থেই ‘হাঁটুরে প্রোটিন’ বলে ডাকেন। মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখলে মনে হবে, মানুষের মতোই দুটি পা ফেলে কোষের ভেতরের নির্দিষ্ট রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছে এই প্রোটিন। মাথায় করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কোষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য সব উপাদান বা কার্গো। মানবদেহের এই অতিক্ষুদ্র জৈবিক যন্ত্র বা ন্যানো-মেশিন কীভাবে কাজ করে, তা জীববিজ্ঞানের অন্যতম বিস্ময়।

কাইনেসিন প্রোটিন সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য

  • 🚶‍♂️ হাঁটার ক্ষমতা: এটি কোষের মাইক্রোটিবিউল (Microtubule) নামের সুতার মতো ট্র্যাকে আক্ষরিক অর্থেই পা ফেলে হাঁটে।
  • 🔋 জ্বালানি: কাইনেসিন তার প্রতিটি কদমের জন্য এটিপি (ATP) নামক জৈব অণু থেকে শক্তি সংগ্রহ করে।
  • 📦 ডেলিভারি ম্যান: এর মূল কাজ হলো কোষের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অর্গানেল, প্রোটিন এবং নিউরোট্রান্সমিটার বহন করা।
  • 🧠 স্নায়বিক সম্পর্ক: এই প্রোটিনের ত্রুটির কারণে আলঝেইমার্স বা পারকিনসন্সের মতো জটিল স্নায়বিক রোগ হতে পারে।

কোষের অভ্যন্তরীণ মহাসড়ক ও কাইনেসিনের ‘হাঁটা’

আমাদের কোষের ভেতরে সাইটোস্কেলিটন নামের একটি কাঠামো থাকে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘মাইক্রোটিবিউল’ (Microtubule)। এগুলো অনেকটা রেললাইনের মতো কাজ করে। কাইনেসিন প্রোটিনের দুটি অংশ থাকে—একটি ‘মাথা’ যা পায়ের মতো কাজ করে এবং মাইক্রোটিবিউলের সাথে আটকে থাকে, আর অন্যটি ‘লেজ’ যা কার্গো বা বস্তা (ভেসিকল) ধরে রাখে। এটিপি (ATP) অণু ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হলে কাইনেসিনের একটি ‘পা’ সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং মাইক্রোটিবিউলকে আঁকড়ে ধরে। এভাবে একটার পর একটা পা ফেলে সে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে কোষের নির্দিষ্ট গন্তব্যে প্রয়োজনীয় উপাদান পৌঁছে দেয়।

স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা ও স্নায়বিক রোগে কাইনেসিনের ভূমিকা

কাইনেসিন প্রোটিন মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেমের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের স্নায়ুকোষ বা নিউরনগুলো লম্বায় অনেক বড় হয় (কখনো কখনো এক মিটার পর্যন্ত)। নিউরনের মূল দেহ থেকে তার দূরবর্তী প্রান্ত (অ্যাক্সন টার্মিনাল) পর্যন্ত বেঁচে থাকার রসদ ও সংকেতবাহী নিউরোট্রান্সমিটার পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র ভরসা এই কাইনেসিন। যদি কোনো কারণে কাইনেসিন ঠিকমতো হাঁটতে না পারে বা রাস্তায় জ্যাম তৈরি হয়, তবে স্নায়ুকোষটি পুষ্টির অভাবে মারা যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, কাইনেসিন প্রোটিনের এই ত্রুটিপূর্ণ পরিবহনের সাথেই আলঝেইমার্স, হান্টিংটনস বা মোটর নিউরন ডিজিজের মতো ভয়াবহ রোগগুলোর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

এক নজরে কাইনেসিন প্রোটিনের বৈজ্ঞানিক রূপরেখা

বিষয় বিস্তারিত তথ্য
প্রোটিনের ধরন মোটর প্রোটিন (Motor Protein)
চলাচলের রাস্তা (Track) মাইক্রোটিবিউল (Microtubule)
শক্তির উৎস এটিপি (ATP – Adenosine Triphosphate) অণুর বিশ্লেষণ
প্রাথমিক কাজ কোষের ভেতরে ইন্টারসেলুলার ট্রান্সপোর্ট বা কার্গো পরিবহন করা
গতির দিক সাধারণত অ্যান্টেরোগ্রেড (কোষের কেন্দ্র থেকে বাইরের প্লাস এন্ডের দিকে)
ত্রুটিজনিত প্রভাব গুরুতর নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ (যেমন- আলঝেইমার্স, পারকিনসন্স)

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।