![]()
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌমাইন বিস্ফোরণে ডুবে গেছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রে ভাসতে দেখা গেছে আইফোনের বাক্স, দামি পারফিউমসহ বিভিন্ন মালামাল। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের কনটেইনারবাহী জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আগুন ধরে যায়। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়লে জাহাজটি ডুবে যায়।
সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটিতে থাকা ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি, জাহাজটি ‘অননুমোদিত ও বিপজ্জনক’ পথে চলাচলের সময় নৌমাইনে আঘাত পেয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটিতে আড়াই হাজারের বেশি কনটেইনার ছিল।
এদিকে জাহাজডুবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে সমুদ্রের পানিতে আইফোনের বাক্স ও দামি সুগন্ধির প্যাকেট ভাসতে দেখা যায়। ছোট ছোট নৌকায় থাকা কয়েকজনকে পানিতে ভাসমান এসব পণ্য সংগ্রহ করতেও দেখা গেছে।
এদিকে একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে কেপ দাউ নামে আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজডুবির খবর পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইওএম) জানিয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর হরমুজে হামলার শিকার হয়ে অচল হয়ে পড়েছিল জাহাজটি।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোনের আঘাতে এক নাবিক নিহতও হয়েছিলেন। বাকি নাবিকদের অবশ্য উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই জাহাজটি বুধবার ডুবে গেছে।
আইওএমের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে এ পর্যন্ত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবেছে। এসব জাহাজের মধ্যে জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাউ যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়।
