![]()
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গরুর মাংস রান্না’ নিয়ে বিতর্ক ও উত্তাপ: প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রতিবাদে আবারও গরুভোজের ডাক শিক্ষার্থীদের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক বর্তমানে নতুন মোড় নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার বিজ্ঞপ্তি দিলেও, তার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা পুনরায় ক্যাম্পাসে ‘গরুভোজ’ ও একাধিক গরু জবাই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
- 📍 ঘটনার সূত্রপাত: ১২ই অক্টোবর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের মুক্তমঞ্চের কাছে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন।
- 🛕 মন্দির কমিটির আপত্তি: স্থানটি কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে হওয়ায় কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থী ও মন্দির কমিটি আপত্তি জানায় ও কথা কাটাকাটি হয়।
- 📜 প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি: বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো পশু জবাই ও সংবেদনশীল রান্নার ওপর প্রশাসনের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা ও পরবর্তী ব্যাখ্যা।
- 🥩 শিক্ষার্থীদের পাল্টা কর্মসূচি: প্রশাসনের আদেশের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের একাংশ শুক্রবার ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে একাধিক গরু জবাইয়ের ঘোষণা দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত ও মন্দির পরিচালনা কমিটির বক্তব্য
গত ১২ই অক্টোবর জবি ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চের কাছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করে। আয়োজনস্থলের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির থাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা এতে আপত্তি জানায়। তবে জবি কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জয় সাহা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক কথা কাটাকাটির পর আয়োজকরা মন্দির থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নিয়েই রান্না করেছিলেন। তবুও অনেকের দাবি ছিল, স্থান নির্বাচনে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ঝড়
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জবি প্রশাসন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে ক্যাম্পাসে পশু জবাই করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এই নিষেধাজ্ঞার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তাদের দাবি, এটি খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ। বিতর্ক সামাল দিতে প্রশাসন তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দ্বিতীয় একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি।
শুক্রবার একাধিক গরু জবাই ও বড় ‘গরুভোজ’ আয়োজনের ঘোষণা
প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং পাল্টা হিসেবে শুক্রবার জবি প্রাঙ্গণে ‘গরুভোজ’ কর্মসূচি পালনের কথা ঘোষণা করে। তারা জানিয়েছে, নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তারা শুক্রবার ক্যাম্পাসে একাধিক গরু জবাই করে গণভোজের আয়োজন করবে। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সাম্পদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক ঘটনাক্রম একনজরে
| তারিখ / পর্যায় | বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ | মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না ও হিন্দু শিক্ষার্থীদের আপত্তি। |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | পশু জবাই থেকে বিরত থাকতে দুই দফায় সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি। |
| শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া | বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে শুক্রবার একাধিক গরু জবাই ও বড় ‘গরুভোজ’ এর ঘোষণা। |
| বর্তমান পরিস্থিতি | ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা, সামাজিক মাধ্যম ও প্রক্টর অফিসের নজরদারি অব্যাহত। |
