![]()
প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের সংলাপ অংশীদার হলো ইসরায়েল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সারের ঘোষণা
প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের (Pacific Islands Forum) নতুন সংলাপাংশীদার বা ‘ফোরাম পার্টনার’ হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছে ইসরায়েল। বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ঘোষণা দেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার (Gideon Sa’ar)। গাজা যুদ্ধের পটভূমিতে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে নতুন কূটনৈতিক সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
- 🌐 নতুন অংশীদারিত্ব: যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর ২২তম সংলাপ অংশীদার হিসেবে যোগ দিল ইসরায়েল।
- 🏝️ পালাউ বৈঠকে অনুমোদন: ফোরামের মহাসচিব ব্যারেন দিভাভেসি ওয়াকা জানান, পালাউয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে প্যাসিফিক নেতারা ইসরায়েলের আবেদন মঞ্জুর করেন।
- 🌱 সহযোগিতার ক্ষেত্র: পানি ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা দূরীকরণ, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন।
- 🏛️ দূতাবাস স্থাপন: চলতি বছরেই ফিজিতে নতুন দূতাবাস স্থাপন করেছে ইসরায়েল; বিপরীতে জেরুজালেমে দূতাবাস খুলেছে পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি ও নাউরু।
প্যাসিফিক অঞ্চলে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও সমঝোতা
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার জানান, চলতি বছরের জুনে ফিজি সফরকালে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফোরাম পার্টনারশিপ’-এর আবেদন পেশ করা হয়। পরবর্তীতে পালাউ দ্বীপে আয়োজিত আঞ্চলিক নেতাদের সম্মেলনে ফোরামের মহাসচিব ব্যারেন দিভাভেসি ওয়াকা (Baron Divavesi Waqa) ইসরায়েলের সেই আবেদন অনুমোদনের বিষয়টি তাঁকে নিশ্চিত করেন। এই কাঠামোর অধীনে পানি ব্যবস্থাপনা, কৃত্রিমভাবে পানি শোধন (Desalination), জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও কৃষিক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি একটি স্থায়ী নজরদারি মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করবে দুই পক্ষ।
গাজা যুদ্ধ ও জাতিসংঘে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন
গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বজুড়ে জোরালো আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও পর্যালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি প্যাসিফিক দ্বীপরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে অথবা বিপক্ষে উত্থাপিত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেছে। বর্তমান নেতানিয়াহু সরকারের মেয়াদে পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি ও নাউরু তাদের দূতাবাস বিতর্কিত জেরুজালেম শহরে স্থানান্তরিত করেছে।
প্যাসিফিক ফোরামের নিরবতা ও আন্তর্জাতিক সমীকরণ
প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের নীতিমালার আওতায় ব্লু-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোকে বিশ্ব আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে অবদানের সুযোগ হিসেবে ‘ডায়ালগ পার্টনার’ মর্যাদা দেওয়া হয়। এই জোটের স্থায়ী ২১টি দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও ইইউ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই একক টুইট বার্তার বিষয়ে প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ফোরামে ইসরায়েলের অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত তথ্যসূচি
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| সংস্থার নাম | প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ফোরাম (Pacific Islands Forum – PIF) |
| ঘোষণা প্রদানকারী | গিদন সার (ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) |
| আবেদন ও অনুমোদন ভেন্যু | ফিজি সফর (জুন ২০২৬) | অনুমোদন: পালাউ সম্মেলন (অক্টোবর ২০২৬) |
| জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপনকারী দেশসমূহ | পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি ও নাউরু |
