![]()
“তোমরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারো, তবেই আমরা ভবিষ্যতে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব”— বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে খুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো শিক্ষার্থীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই গ্যালারিতে বসে থাকা ছোট বন্ধুদের মধ্য থেকেই দেশের সেরা ডাক্তার, স্থপতি, প্রকৌশলী, ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় তৈরি হবে। তোমরাই এই দেশের ভবিষ্যৎ, তাই নিজেকে কখনো ছোট ভাববে না। তুমি যত শক্তভাবে নিজেকে গড়ে তুলবে, বাংলাদেশও তত সুন্দর হবে।”
সংবাদমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত পত্রিকায় নানা খবর ‘লিড নিউজ’ হতে দেখি। কিন্তু আজ আপনারা যে আয়োজনটি দেখে গেলেন, এটিই মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আগামীকালের পত্রিকা ও সম্প্রচারমাধ্যমে এই শিশুদের খেলার সংবাদটি যেন ‘লিড নিউজ’ হিসেবে গুরুত্ব পায়, সেই অনুরোধ রইল।”
শিক্ষা খাতের সংকট কাটাতে কাজ করছে সরকার
দেশের বিদ্যমান নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক স্কুলে এখনো প্রয়োজনীয় সুবিধা নেই, অনেক শ্রেণিকক্ষে ফ্যানও ঠিকমতো চলে না। তবে বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে এসব সমস্যা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিদ্যালয়গুলো উন্নত হতে পারে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান
পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাহায্য চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পুকুর, নদী-নালা বা রাস্তায় কাউকে প্লাস্টিকের বোতল ও ময়লা ফেলতে দেখলে তাকে বারণ করবে। প্রয়োজনে নিজেরা তুলে নির্ধারিত স্থানে ফেলবে। নদী ও জলাশয়ের পরিচ্ছন্নতায় বন্ধুদের নিয়ে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, প্রতিবছর বাড়ি বা স্কুলের চারপাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগাবে, যাতে আমরা বিশুদ্ধ বাতাস পাই।”
হাত তুলে অঙ্গীকার খুদে ক্রীড়াবিদদের
বক্তৃতার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, “বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কে কে আমার সাথে কাজ করবে?” সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামের হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী একযোগে হাত তুলে সম্মতি জানায়। প্রধানমন্ত্রী তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “দেশ গড়ার কাজ আমরা শুরু করেছি, তবে একে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মূল দায়িত্ব তোমাদেরই।”
জাঁকজমকপূর্ণ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক, শিক্ষক ও কোচদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রতিযোগিতার ফুটবলের ফাইনালে বালকদের বিভাগে সিলেট অঞ্চল এবং বালিকাদের বিভাগে রংপুর অঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও বিজয়িনীদের হাতে ট্রফি, মেডেল, ক্রেস্ট ও অর্থপুরস্কারের চেক তুলে দেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম। উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
উল্লেখ্য, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আটটি ডিসিপ্লিনে আয়োজিত এই আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সারাদেশের জেলা ও উপজেলা থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার খুদে ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করে।
