![]()
নিউজ প্রোভাইডার
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দলটির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতিতে গোলাপগঞ্জে এই হামলার ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে সিলেটের ৫টি উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
গোলাপগঞ্জে দুই দফা হামলা ও সারজিস আলমের গাড়ি ভাঙচুর
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাক্ষাৎ শেষে বের হওয়ার সময় এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতকারীরা পরপর দুই দফা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এই হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতুর ব্যবহৃত গাড়িসহ বহরের একাধিক যানবাহনের পেছনের ও পাশের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গোলাপগঞ্জের কর্মসূচি শেষে কানাইঘাট, ওসমানীনগর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে নির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচিকে ঘিরে গোটা এলাকায় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের বিজিবি মোতায়েন ও কড়া নজরদারি
হামলার পর সিলেটের সীমান্তঘেঁষা ও স্পর্শকাতর উপজেলাগুলোতে নিরাপত্তা বলয় জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সিলেটের গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, ওসমানীনগর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট—এই ৫টি উপজেলায় পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দোষারোপ ও বিএনপির অস্বীকার
গাড়িবহরে হামলার পর এনসিপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সরাসরি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ কড়া ভাষায় অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল। তাঁদের দাবি, এই হামলার সঙ্গে দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয় এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের নাম জড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এরই প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সিলেটে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এনসিপির নেতাকর্মীরা।
