![]()
নিউজ প্রোভাইডার
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হাব মিসরের দামিয়াত্তা বন্দরে দুটি বড় এলএনজি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ড্রোন হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে দেশটির মন্ত্রিসভা। এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার না করলেও বিষয়টি গভীর গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জোড়া জাহাজে আঘাত ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি ড্রোন সরাসরি মার্কিন মালিকানাধীন ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ভেসেল ‘এনারগোস উইন্টার’ (Energos Winter)-এ আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পাশে নোঙর করা গ্রীক মালিকানাধীন এলএনজি ট্যাংকার ‘গ্যাসলগ সেলেম’ (GasLog Salem)-এ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় অগ্নিনির্বাপক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় এবং কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। মেরিন ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ড কাটিয়ে জাহাজ দুটি বর্তমানে বন্দর এলাকা থেকে সমুদ্রের দিকে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে। বর্তমানে দামিয়াত্তা বন্দর পূর্ণ সক্ষমতায় সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
ড্রোনটি ঠিক কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন হামলার ঘটনা নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে শঙ্কায় ফেলেছে।
-
মার্কিন প্রতিক্রিয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাকে এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান কিংবা তাদের সমর্থিত কোনো প্রক্সি গোষ্ঠী এই ঘটনার পেছনে দায়ী থাকতে পারে।
-
ইরাক ও সৌদিতে পাল্টা আক্রমণ: মিসরের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (PMF)-এর ওপর হামলা চালায়। তাদের দাবি, গোষ্ঠীটি ইরানি রিভোলিউশনারি গার্ডের (IRGC) নির্দেশে সৌদি তেলের স্থাপনায় ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। উক্ত বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন পিএমএফ সদস্য নিহত হয়েছে।
-
ইরানের হুঁশিয়ারি ও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ: জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ব্যাপক পাল্টা সামরিক হামলা চালায়। অন্যদিকে ইরাকে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মারাত্মক পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে তেহরান।
মিসরের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি হাবে ড্রোন হামলা প্রমাণ করছে যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কেবল পারস্য উপসাগর বা লোহিত সাগরেই সীমাবদ্ধ নেই, তা দ্রুত ভূমধ্যসাগরীয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটেও ছড়িয়ে পড়ছে।
