Touch Bangladesh
ঢাকাসোমবার , ১০ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

সালমান শাহ প্রয়াণের তিন দশক: আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড?

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
আগস্ট ১০, ২০২৬ ৩:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

নিউজ প্রোভাইডার 
বাংলাদেশের রূপালী পর্দার সর্বকালের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (মঞ্চনাম সালমান শাহ)। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের পর তিন দশক অতিক্রম হতে চললেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে থাকা বিতর্ক ও রহস্য আজও স্তমিত হয়নি। পুলিশ ও আদালতের একাধিক তদন্তে ‘আত্মহত্যা’র কথা বলা হলেও তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং লাখো ভক্ত এখনো দাবি করে আসছেন—এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

১. ঘটনার দিন ও প্রাথমিক প্রেক্ষাপট (৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬)

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার নিউ ইস্কাটন রোডের ‘ইসকাটন প্লাজা’র ৬ষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ২৪ বছর বয়সী সালমান শাহকে।
তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অবস্থায় সালমানের বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেন। তবে মৃত্যুর ধরণ ও আলামত পর্যবেক্ষণ করে কিছুদিন পর এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করার লিখিত আবেদন জানান তিনি।

২. প্রধান অভিযুক্ত ও আসামিদের তালিকা

সালমান শাহর পরিবার থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হয় যে, এটি সাধারণ আত্মহত্যার কোনো ঘটনা নয়। পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলায় যে সকল ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে:
১. সামিরা হক: সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী।
২. আশরাফুল হক ডন (অভিনেতা ডন): চলচ্চিত্র অভিনেতা ও সালমানের নিকট বন্ধু।
৩. আজিজ মোহাম্মদ ভাই: প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী।
৪. লতিফা হক লুসি: সামিরা হকের মা।
৫. রুবি জামান: সালমানের তৎকালীন বিউটিশিয়ান (যিনি পরবর্তীতে প্রবাস থেকে ভিডিও বার্তায় একে হত্যা বলে দাবি করেন)।
৬. এ ছাড়াও রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ আরও একাধিক ব্যক্তিগত কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীকে আসামি তালিকায় রাখা হয়।

৩. তিন দশকের দীর্ঘ তদন্তপ্রক্রিয়া ও আইনি লড়াই

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গত ৩০ বছরে দেশের প্রধান প্রধান আইনশৃঙ্খলা ও তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে:
  • সিআইডি ও প্রথম বিচার বিভাগীয় তদন্ত: ১৯৯৭ সালে সিআইডি প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে এটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। সালমানের পরিবার এর বিরুদ্ধে নারাজি (প্রত্যাখ্যান) দিলে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১৪ সালে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটিও ‘আত্মহত্যা’র সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়।
  • পিবিআই (PBI)-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত (২০২০): দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিবিআই তাদের ৬০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পিবিআই জানায়, সালমান শাহর খুনের কোনো প্রমাণ মেলেনি। দাম্পত্য কলহ, মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।
  • পরিবারের আইনি লড়াই ও বর্তমান অবস্থান: সালমানের মা নীলা চৌধুরী পিবিআই-এর রিপোর্টও প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটিকে পুনরায় নিয়মিত ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে আইনি ধারায় অন্তর্ভুক্ত করে সিআইডিকে অধিকতর পুনঃতদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

৪. ভক্তদের আবেগ ও চলচ্চিত্রে সালমানের প্রভাব

মাত্র চার বছরের স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে (১৯৯৩–১৯৯৬) ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বাংলা সিনেমাকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে যান সালমান শাহ। তাঁর অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ আজও দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে।
তিন দশক কেটে গেলেও বাংলা চলচ্চিত্রের এই বরপুত্রের অকালমৃত্যুর সঠিক রহস্যাবৃত উত্তর আজও পাননি তাঁর পরিবার ও কোটি অনুরাগী।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।