![]()
হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষকের চড়, শ্রেণিকক্ষেই ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষকের চড়ের আঘাতে শ্রেণিকক্ষেই ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ওয়ান টাউন এলাকায় অবস্থিত ‘লিটল গার্ডেনস স্কুল’-এ এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মাত্র ৬ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
- 📍 ঘটনাস্থল: লিটল গার্ডেনস স্কুল, ওয়ান টাউন, বিশাখাপত্তনম।
- 👤 নিহত শিশু: প্রণয় তেজা (৬), প্রাক-প্রাথমিক (UKG) শিক্ষার্থী।
- ⚠️ দুর্ঘটনার কারণ: হোমওয়ার্ক না করায় নারী শিক্ষকের চড় ও অপমান।
- ⚖️ বর্তমান অবস্থা: পুলিশের মামলা দায়ের এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে প্রেরণ।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল শিক্ষকের নিষ্ঠুরতা
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর এবং পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশুটির নাম প্রণয় তেজা। সে আগের দিনের হোমওয়ার্ক না করায় এবং শিক্ষকের প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায় ওই নারী শিক্ষক চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে চড় মারেন এবং ক্লাসের সবার সামনে তাকে লজ্জিত করার চেষ্টা করেন।
শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, ওই নারী শিক্ষক শিশুটির জামা টেনে ধরছেন এবং তাকে সজোরে চড় মারছেন। চড় মারার পরপরই শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সে প্রথমে শিক্ষকের গায়ের ওপর ঢলে পড়ে এবং এরপর সোজা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।
একনজরে: নিহত শিক্ষার্থী ও দুর্ঘটনার বিবরণ
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহত শিশুর নাম ও বয়স | প্রণয় তেজা (৬ বছর) |
| শ্রেণি ও বিদ্যালয় | ইউকেজি (UKG), লিটল গার্ডেনস স্কুল |
| হাসপাতাল | কিং জর্জ হাসপাতাল (মৃত ঘোষণা করা হয়) |
| চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা | তীব্র আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাক বা শ্বাসরোধ |
হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা ও পুলিশের পদক্ষেপ
মেঝেতে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় কিং জর্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাকে ‘ব্রট ডেড’ বা মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র আতঙ্ক বা আঘাতের কারণে শিশুটি হার্ট অ্যাটাক বা শ্বাসরোধ হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় বিশাখাপত্তনম পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে শিশুটির মরদেহ ইতোমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
