![]()
‘সামরিকভাবে ব্যর্থ হয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধ’, ট্রাম্পের হুমকি উড়িয়ে দিল ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে ধসিয়ে দেওয়ার হুমকিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির সরকার। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ (Economic D-Day)-র হুমকি প্রকৃতপক্ষে সামরিক ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
- 💥 ট্রাম্পের হুমকি: ইরান ও এর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সর্বকালের সবচেয়ে ভয়াবহ “অর্থনৈতিক ডি-ডে” অভিযানের ঘোষণা।
- 🗣️ ইরানের প্রতিক্রিয়া: সরাসরি সামরিক যুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন এখন “মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ” শুরু করেছে।
- 🚢 হরমুজ প্রণালী সংকট: মার্কিন নৌ অবরোধের জবাবে গুরুত্বপূর্ণ তেলের জলপথে ট্রাফিকে কড়া বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে ইরান।
- 🇨🇳 চীনের অবস্থান: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করে সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার আহ্বান।
‘কঠিন যুদ্ধে ব্যর্থ হয়েই অর্থনৈতিক চাপ’
প্রতিবেশী ইরাক সফরকালে স্পিকার গালিবাফ বলেন, “আমেরিকান ও ইসরায়েলিরা বুঝতে পেরেছে যে কঠিন সামরিক যুদ্ধের মাঠে তারা ইরানকে মোকাবিলা করতে পারবে না। তাই তারা মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধে প্রবেশ করেছে।” অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই এই অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বেশি মার্কিনবিরোধী মনোভাব তৈরি করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার হুমকি
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, “ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান” চালানো হবে ইরানের বিরুদ্ধে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে কোনো দেশ যদি ইরানকে কোনো প্রকার সহায়তা বা অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়, তবে সেই দেশকেও চরম অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সংবাদমাধ্যমে জানান, ইরান বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সমন্বিত অর্থনৈতিক আইসোলেশনের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
একনজরে: যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান অর্থনৈতিক সংঘাত
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| মার্কিন কৌশল | ‘Economic D-Day’ ও বিস্তৃত সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া | অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ ও সামরিক ব্যর্থতার প্রতীক |
| প্রধান লক্ষ্যবস্তু দেশ | চীন (ইরানের ৯০% তেলের আমদানিকারক) |
| পরবর্তী ঘোষণা | আগামী সোমবার বিশদ পরিকল্পনা জানাবেন স্কট বেসেন্ট |
চীন ও বৈশ্বিক বাজারের ওপর প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই নিষেধাজ্ঞার হুমকির ফলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে চীনের ক্ষেত্রে। কারণ চীনই ইরানি অপরিশোধিত তেলের মূল ক্রেতা (প্রায় ৯০ শতাংশ)। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নিষেধাজ্ঞা বা ভয় দেখানোর নীতি কোনো সমাধান এনে দিতে পারে না, বরং আলোচনার পথেই সমাধান সম্ভব।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান শাসকরা অর্থনৈতিক চাপের চেয়ে নিজেদের টিকে থাকাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে তীব্র আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করতে হলেও তেহরান নিজেদের শক্ত অবস্থান থেকে সহজে সরে আসবে না।
